ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন থেকেই টিকিটের দাম নিয়ে শুরু করেছে আলোচনা। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অনেককেই অবাক করেছে। সর্বোচ্চ একটি টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখের বেশি। ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিট হিসেবে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দাম।
প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি দাম
শুরুতে আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম হবে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ ডলার। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় টিকিট ছাড়ার সময় দাম কিছুটা কম ছিল। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হওয়ার পর দাম আরও বেড়ে যায়।

ডায়নামিক প্রাইসিংয়ে বাড়ছে টিকিটের মূল্য
এই বিশ্বকাপে ফিফা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়ছে বা কমছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যতালিকা নেই, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে।
ফাইনাল টিকিটে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি
ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম আগের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির টিকিট এখন প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ ডলার, আর তৃতীয় ক্যাটাগরির টিকিট প্রায় ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিট ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০৪ ডলার, যা এবারের তুলনায় অনেক কম।
টিকিট কিনতে ভোগান্তি ও প্রযুক্তিগত সমস্যা
টিকিট কেনার প্রক্রিয়াতেও ভোগান্তির অভিযোগ এসেছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অনলাইনে অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি। আবার কেউ কেউ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বারবার লাইনের শেষে চলে গেছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিট পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
রিসেল বাজারে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া
পুনর্বিক্রয় বা রিসেল বাজারে দাম আরও বেশি। সেখানে একটি ফাইনাল টিকিটের জন্য প্রায় ৮২ হাজার ডলার পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ১ কোটিরও বেশি। এমনকি তুলনামূলক সস্তা টিকিটও কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা চলছে।

গ্রুপ ম্যাচে কিছুটা স্বস্তি, তবু দাম বেশি
গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিট তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু টিকিট ১৪০ ডলার থেকে শুরু হলেও জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর দাম দ্রুত বাড়ছে। আবার করপোরেট প্যাকেজে বিলাসবহুল সুবিধাসহ টিকিটের দাম লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে টিকিটের দাম, স্বচ্ছতার অভাব এবং অনলাইন জটিলতা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বেশি খরচের কারণে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।