সর্বশেষ

ভোটে হারিনি, কেন পদত্যাগ করব: মমতা

ভোটে হারিনি, কেন পদত্যাগ করব: মমতা

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজ বাসভবন কালিঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি ভোটে হারিনি, পদত্যাগ কেন করব? নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই পক্ষপাতদুষ্টভাবে পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট গণনার সময় থেকেই অনিয়ম শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সমর্থকরা গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করে সহিংসতা চালায় এবং ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। তাঁর দাবি, তিনি শুরুতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফল উল্টে যায়। তিনি এটিকে স্বাভাবিক পরাজয় নয়, বরং পরিকল্পিত ‘লুট’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে গণনাকেন্দ্রে অনিয়ম করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনিক স্তরেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে থেকেই বহু অফিসারকে বদলি করা হয়েছে।  নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে তিনি ‘ভিলেন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। ফলাফলে তাঁর নিজের আসনে পরাজয়ের বিষয়টি উল্লেখ হলেও তিনি পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তাঁর মতে, এটি প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং জোর করে তৈরি করা ফলাফল। তিনি জানান, তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। এছাড়া তিনি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন। তাঁর দাবি, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এই জোট আরও সুসংগঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের একাধিক শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় শুরু হলো আম পাড়া

সাতক্ষীরায় শুরু হলো আম পাড়া

সাতক্ষীরায় স্থানীয় জাতের আম গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি এলাকার একটি বাগানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। এর আগে, ২৬ এপ্রিল আম পরার সময় নির্ধারণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকেই দেশি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হলো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, আমের গুণগত মান বজায় রাখতে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেই পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ স্থানীয় আম বাজারে আসবে। হিমসাগর আম পাওয়া যাবে ১৫ মে থেকে, ল্যাংড়া উঠবে ২৭ মে’র পর। আর আম্রপালি ও মল্লিকা সংগ্রহ শুরু হবে ৫ জুন থেকে। তিনি আরও জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। মোট ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক যুক্ত আছেন। এবার মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। পাশাপাশি বিদেশে ৮০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করা হচ্ছে।

তিস্তা ইস্যুতে ভারতের জন্য বসে থাকবে না বাংলাদেশ

তিস্তা ইস্যুতে ভারতের জন্য বসে থাকবে না বাংলাদেশ

তিস্তাপাড়ের মানুষের ‘বাঁচা-মরার’ প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকতে চায় না বাংলাদেশ।  বরং এই প্রান্তের উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালাতে আগ্রহী। তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চীন সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর শুধুমাত্র ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে চায় না। তাই তিস্তা নদী কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খোঁজা হচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি।  বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতায় চুক্তিটি আটকে যায়।  ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ পানির সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার “তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট” গ্রহণ করে।  প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো নদী তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো।  এই প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে।  যেখানে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে বলে জানা যায়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই তিস্তা প্রকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি ভারতও পরবর্তীতে প্রকল্পে আগ্রহ দেখালেও রাজনৈতিক জটিলতায় বিষয়টি অনিশ্চিত রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে “ইকোলজিক্যাল সংকট” ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই সরকার একাধিক বিকল্প পথ খুঁজে দ্রুত সমাধান আনতে চায়, যাতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। সব মিলিয়ে, তিস্তা চুক্তি এখন শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশ-চীন উন্নয়ন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মমতাসহ তৃণমূলের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনের নিজ আসনে পরাজয়

মমতাসহ তৃণমূলের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনের নিজ আসনে পরাজয়

দলটির সরকারে থাকা ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই নিজেদের আসনে হেরে গেছেন। অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রী বিজয়ী হতে পারেননি। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। তিনি কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে গেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রীও এ নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।  আবাসন ও বিদ্যুৎ, শিক্ষা, শিল্প, পরিবহন, নারী ও শিশুকল্যাণ, তপশিলি ও অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এই তালিকায় রয়েছেন। বিজেপির উত্থানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পক্ষে শক্তিশালী জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরও পড়েছে। ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা জানিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিনটি রবীন্দ্রজয়ন্তী হওয়ায় নতুন সরকার গঠনে একটি প্রতীকী তাৎপর্যও দেখা যাচ্ছে। বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়, শেষ তৃণমূল শাসন সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি ২০৬টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যদিও এখনো নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিশ্চিত হয়নি, তবে সম্ভাব্যদের তালিকায় এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি এবং শঙ্কর ঘোষ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। ২০১১ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। ২০১৯ সালে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পায়।  ২০২১ সালে ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়।  এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যারা কেন্দ্রেও ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়ের পর বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে” এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে ১০০টিরও বেশি আসনে ফলাফল “লুট” করা হয়েছে।  তিনি ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার এই দাবির সঙ্গে একমত হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল “চুরি” করা হয়েছে।

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions