বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এডিবি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাজেট সহায়তা হিসেবে আমাদের ১ বিলিয়নের মতো ডলার দিতে তারা (এডিবি) সম্মত আছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যেই ছাড় করবে। আগামী দিনে প্রয়োজনে এটা (অর্থ) বাড়তেও পারে। আর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ১ দশমিক ৪ বিলিয়নের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে এডিবির। এখানেও অর্থের পরিমাণ আগামী দিনে আলোচনা করে বাড়তে পারে।’ এর আগে বাংলাদেশ ম্যানিলাভিত্তিক এ সংস্থার কাছে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়া যায়। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বাংলাদেশ তার প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। এর বেশির ভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিঙ্গাপুর, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে। জানা গেছে, বাজেট সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় ধরনের সহায়তার কথা জানিয়েছে এডিবি। সরকার ২০৩০ সালে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। এ জায়গায় এডিবি বড় ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি। এছাড়া প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলারের নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা ২০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে সোমবার এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে গভর্নরস বিজনেস সেশনে (উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক) বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সংকটে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দা ভাব কাটাতে এডিবির বাড়তি সহায়তা লাগতে পারে বলেও উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। এর একদিন পর বাজেট সহায়তার বিষয়টি নিয়ে এডিবি তার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে। বৈঠকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি। এ খাতে সংস্থাটির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশও যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে অন্যান্য অনেক দেশও এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এডিবির খুবই আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তারা সহায়তা করবে। এখানে কিছু কিছু দেশও যেমন জার্মানি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ খাতের প্রকল্পগুলোয় তারাও সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এখানে একটা বড় পোর্টফোলিও আগামী দিনে আমরা আশা করছি হতে পারে। আর জার্মানি কিন্তু খুবই আগ্রহী, কারণ ক্লাইমেট ইস্যুটা আছে। জলবায়ুবান্ধব যে প্রকল্পগুলো রয়েছে, তার মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বিষয়ে তারা অনেক বেশি আগ্রহী।’ অন্যদিকে এডিবির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয় অর্থমন্ত্রীর। এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তার কথা জানান তিনি। নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্টের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি এডিবির পূর্ণ সমর্থন ও আস্থার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকারকে এত বড় ম্যান্ডেট ও জনগণের আস্থা নিয়ে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এডিবি-প্রধান। এছাড়া দ্বিতীয় বিষয় হলো বর্তমান বিএনপির সরকারের যে ইশতাহার, আমরা জনগণের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, যে ইশতাহার দিয়েছি সেটার সঙ্গে সংস্থাটি পুরোপুরি সম্মত রয়েছে (ফুললি অ্যালাইনড)। সুতরাং অল প্রোগ্রামস, অল সাপোর্ট, অল প্রজেক্টস—এ সবকিছুই হবে আমাদের ইশতাহারের পরিপ্রেক্ষিতে।’ এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের দুটি কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত

এডিবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। আগামীতে প্রয়োজন হলে এ সহায়তা আরো বাড়ানো হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি। এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতা কান্ডার সঙ্গে গতকাল এক বৈঠক শেষে বণিক বার্তাকে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাজেট সহায়তা হিসেবে আমাদের ১ বিলিয়নের মতো ডলার দিতে তারা (এডিবি) সম্মত আছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যেই ছাড় করবে। আগামী দিনে প্রয়োজনে এটা (অর্থ) বাড়তেও পারে। আর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ১ দশমিক ৪ বিলিয়নের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে এডিবির। এখানেও অর্থের পরিমাণ আগামী দিনে আলোচনা করে বাড়তে পারে।’ এর আগে বাংলাদেশ ম্যানিলাভিত্তিক এ সংস্থার কাছে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়া যায়। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বাংলাদেশ তার প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। এর বেশির ভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিঙ্গাপুর, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে। জানা গেছে, বাজেট সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় ধরনের সহায়তার কথা জানিয়েছে এডিবি। সরকার ২০৩০ সালে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। এ জায়গায় এডিবি বড় ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি। এছাড়া প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলারের নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা ২০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে সোমবার এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে গভর্নরস বিজনেস সেশনে (উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক) বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সংকটে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দা ভাব কাটাতে এডিবির বাড়তি সহায়তা লাগতে পারে বলেও উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। এর একদিন পর বাজেট সহায়তার বিষয়টি নিয়ে এডিবি তার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে। বৈঠকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি। এ খাতে সংস্থাটির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশও যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে অন্যান্য অনেক দেশও এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এডিবির খুবই আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তারা সহায়তা করবে। এখানে কিছু কিছু দেশও যেমন জার্মানি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ খাতের প্রকল্পগুলোয় তারাও সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এখানে একটা বড় পোর্টফোলিও আগামী দিনে আমরা আশা করছি হতে পারে। আর জার্মানি কিন্তু খুবই আগ্রহী, কারণ ক্লাইমেট ইস্যুটা আছে। জলবায়ুবান্ধব যে প্রকল্পগুলো রয়েছে, তার মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বিষয়ে তারা অনেক বেশি আগ্রহী।’ অন্যদিকে এডিবির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয় অর্থমন্ত্রীর। এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তার কথা জানান তিনি। নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্টের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি এডিবির পূর্ণ সমর্থন ও আস্থার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকারকে এত বড় ম্যান্ডেট ও জনগণের আস্থা নিয়ে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এডিবি-প্রধান। এছাড়া দ্বিতীয় বিষয় হলো বর্তমান বিএনপির সরকারের যে ইশতাহার, আমরা জনগণের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, যে ইশতাহার দিয়েছি সেটার সঙ্গে সংস্থাটি পুরোপুরি সম্মত রয়েছে (ফুললি অ্যালাইনড)। সুতরাং অল প্রোগ্রামস, অল সাপোর্ট, অল প্রজেক্টস—এ সবকিছুই হবে আমাদের ইশতাহারের পরিপ্রেক্ষিতে।’ এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের দুটি কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে দেওয়া প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা হয়নি। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার ও জব্দ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে এবং মামলা করতেও বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকেই তা মানেনি। তাই এখন মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স রাজনৈতিক কারণে বা নিয়ম না মেনে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে এসব লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে। যেগুলোতে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলো বাতিল করে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে ২০০৯ সালের আগে দেওয়া বৈধ লাইসেন্সধারীরা নিয়ম মেনে তাদের অস্ত্র ফেরত পাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। অবৈধ অস্ত্র সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া তিনি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অপরাধ দমনে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচার ও সামাজিক ক্ষতি রোধে নতুন আইন তৈরির কাজ চলছে। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
আগামী ১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী সফরে যাচ্ছেন। বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ১৬ মে চাঁদপুর সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যার মধ্যে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনও রয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বর্ষা মৌসুম চলায় মে মাস পর্যন্ত খনন কার্যক্রম চলবে এবং পরে বর্ষা শেষে নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবার কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এবারের মে মাসের কর্মসূচিতে দুটি জেলা সফর নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সরকার শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
মূল্যস্ফীতি আবারো ৯ শতাংশ ছাড়াল

দেশে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশের বেশি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে, মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। টানা কয়েক মাস ওঠানামার পর মার্চে কিছুটা স্বস্তি এলেও এপ্রিল মাসে আবারও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বাজারে দামের চাপ এখনো স্থিতিশীল হয়নি। মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ধরা হচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম বাড়ায়। ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষকে একই পণ্য আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। বিবিএসের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর। আয় না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেকেই ব্যয় কমাতে বাধ্য হন। এদিকে বাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও কিছুটা বেড়েছে, যদিও চালের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে দেশে গড় মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। ফলে বাস্তব হিসেবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং দৈনন্দিন খরচ মেটানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, আয় ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে এই ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ বাধ্য হয় ঋণের ওপর নির্ভর করতে বা খাবার, পোশাক ও অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে।