ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা, পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, মঙ্গলবার — ব্যাটারিচালিত রিকশা (অটোরিকশা) মহানগর এলাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এতে চালকদের বেকার করা হবে না এবং একই সঙ্গে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নও সম্ভব হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা (অটোরিকশা) মহানগর এলাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এতে চালকদের বেকার করা হবে না এবং একই সঙ্গে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নও সম্ভব হবে। আজ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশে হঠাৎ করেই হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় নেমে এসেছে। বেকারত্ব ও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের রাতারাতি উচ্ছেদ করা কঠিন। অতীতে এবং বর্তমানেও সরকার এসব যান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “চালকদের পুনর্বাসন না করে হঠাৎ করে বেকার করে দিলে সামাজিক সমস্যা তৈরি হবে। তাই সরকার তাদের মহানগরের বাইরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে, যাতে ট্রাফিক ব্যবস্থারও উন্নতি হয়।” ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। এ বিষয়ে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। মন্ত্রী দাবি করেন, ডিজিটাল সিগন্যাল ও অটোমেশন ব্যবস্থার কারণে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি আরও জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক শিশুহত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং সরকার তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণে পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে বিচারাধীন বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আসন্ন বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে।
এপ্রিলের বড় বৃদ্ধি শেষে জুনে এলপিজির দাম কমল, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৮৮৫ টাকা নির্ধারণ

ঢাকা, ২ জুন — দীর্ঘ দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কিছুটা কমানো হয়েছে। জুন মাসের জন্য নতুন দর ঘোষণা করেছে Bangladesh Energy Regulatory Commission (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। গত মে মাসে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। লিটারপ্রতি দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২ টাকা ৫৭ পয়সা কমেছে। বিইআরসি জানিয়েছে, জুন মাসের মূল্য নির্ধারণে সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি), আমদানি ব্যয়, জাহাজভাড়া, ট্রেডার প্রিমিয়াম এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭৬০ ডলার এবং বিউটেনের ৮২০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে। গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৯৯ ডলার। এর আগে গত ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করা হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়। অর্থাৎ মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল এলপিজির দাম। মে মাসে সেই দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে এসে কিছুটা কমানো হলো। সরকারি খাতের এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫ কেজি সরকারি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংকের আন্দোলনকারীরা প্রকৃত আমানতকারী কি না, সন্দেহ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আন্দোলনকারীরা প্রকৃত আমানতকারী কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “রাস্তার কোনো আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না। আন্দোলনকারীরা প্রকৃত আমানতকারী কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।” তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের চাপ বা আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নীতি অনুসরণ করে না। জনস্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বিবেচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের অন্যতম শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় ব্যাংকটির পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। গ্রাহক, আমানতকারী, রেমিট্যান্স প্রেরক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা ধরে রাখার আহ্বান জানাই।” বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চ্যুয়াল সভায় সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এমডি দায়িত্ব পালন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমানতকারীরা মালিকানা দাবি করতে পারেন না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, কোনো ব্যাংকের গ্রাহক বা আমানতকারী ব্যাংকের মালিকানা নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করতে পারেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, গ্রাহকদের উদ্বেগ ও আবেগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যৌক্তিক প্রত্যাশা হওয়া উচিত এমন ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা থাকা, যারা আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে নিয়ে অবস্থান নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো আর্থিক বা নৈতিক অনিয়মের প্রমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই। তিনি জানান, অতীতে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরবর্তী তদন্তে সেসব অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সে কারণেই আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হয়েছে। খুরশীদ আলমের নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন ইতিবাচক। আন্দোলন অব্যাহত এদিকে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যরা। তারা সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল বিক্ষোভকারী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হন। জামায়াতের প্রতিবাদ আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু কোনো উসকানি ছাড়াই তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি গ্রাহকদের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান এবং পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনার নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটির একটি অংশ তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
ঈদের পর বাগযুদ্ধে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ

ঈদুল আজহার উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঈদ পুনর্মিলনী, গণসংবর্ধনা ও দলীয় কর্মসূচিগুলোতে সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরিবর্তে প্রাধান্য পেয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অভিযোগ-প্রতিআরোপ এবং রাজনৈতিক সমালোচনা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে নতুন করে সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। রাজনৈতিক ‘চক্রান্ত’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক চক্রান্ত বা তার ইঙ্গিত জনগণ কখনো ভালোভাবে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে মন্ত্রীদের চেয়েও প্রভাবশালী দাবি করেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা মাসে একবার কথা বললেও তিনি প্রতিদিন কয়েকবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা, সরকারি প্রটোকল এবং গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর সদস্য ছিলেন না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে এনসিপির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও। সাবেক গণঅধিকার পরিষদ নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগে প্রভাব খাটানো এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এদিকে ঝিনাইদহে হামলার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ছাত্রদল-যুবদলের পাশাপাশি পুলিশও তাদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তিনি এ পরিস্থিতিকে অতীতের ‘পুলিশ লীগ’ সংস্কৃতির নতুন রূপ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও রাজনৈতিক বক্তব্য এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। তিনি হামের সংক্রমণ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অন্যদিকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সামাজিক অবক্ষয় ও মৌলবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঝিনাইদহে এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল ধর্মকে ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যুবসমাজকে মাদক ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গেও এসেছে কড়া বক্তব্য। চট্টগ্রামে এক দোয়া মাহফিলে বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। এদিকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মাদকবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাদকের বিস্তার ঘটেছে এবং অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পরপরই বিভিন্ন দলের নেতাদের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচন, সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য যত বাড়বে, ততই রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় ৮০% ব্যয় বহন করবে বেসরকারি হাসপাতাল, সরকারি সেবায় সব বিনামূল্যে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্লিনিক ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। চিকিৎসকদের ফিও মওকুফ করা হয়েছে। রোগীদের শুধু ওষুধ ও খাদ্যসহ বাকি ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে সচেতনতামূলক অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বাসা, ভবনের ছাদ, আঙিনা বা আশপাশের পরিবেশে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এখনই ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নয় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে সরকার এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন শতভাগ স্বীকৃত ও সার্বজনীন নয়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে’ ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হলে আমরা সবাই ব্যর্থ। তাই সফল হতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” চলতি বছরে মৃত্যুহার কম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল বছরের সর্বোচ্চ মাসিক মৃত্যুর রেকর্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
সরকারের মোট ব্যয়ের ৮৪ শতাংশ পরিচালন খাতে, শেষ প্রান্তিকে ব্যয়ের চাপ ৩.৮১ লাখ কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকায়। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে, যা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থ বিভাগের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে প্রথম নয় মাসে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ। ফলে অর্থবছরের বাকি তিন মাসে সরকারের সামনে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বড় চাপ তৈরি হয়েছে। পরিচালন ব্যয়েই সিংহভাগ অর্থ প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ছিল চলতি ব্যয়, যা পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৯২ শতাংশ। এ সময় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে মূলধনি ব্যয়, অর্থাৎ অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ খাতে ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে ব্যাপকভাবে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রথম নয় মাসে রাজস্ব ও অনুদান মিলিয়ে সরকারের মোট আয় হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। একই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা কম। ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিট ১ লাখ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। তবে ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২০ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিদেশি উৎস থেকে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক ৯ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয়ে ধীরগতি উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের গতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর। প্রথম নয় মাসে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৭ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, শেষ সময়ে বরাদ্দ ছাড় এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে এডিপির অগ্রগতি ধীর হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ধীরগতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। তার মতে, শুধু অর্থ ব্যয় করাই নয়, বরং সেই ব্যয়ের গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগামী বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাবেক অর্থ সচিব ও সাবেক সিএজি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীও বাজেট বাস্তবায়নের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অবস্থান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এডিপি ও সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোকে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সীমাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব চলতি অর্থবছরের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। ফলে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাজেট বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।