চাঁদের চারপাশে ঘুরে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী। শনিবার সকালে তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।

রয়টার্স বলছে, মার্কিন মহাকাশ সংস্থার তৈরি ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে পানিতে অবতরণ করে। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছান, যা মানুষের মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে অন্যতম গভীরতম ভ্রমণ।
মিশন শেষে নিরাপদ অবতরণকে ‘একেবারে নিখুঁত’ বলে বর্ণনা করেছেন নাসার ভাষ্যকাররা। অবতরণের পরপরই মিশন কমান্ডার রেইড উইসম্যান জানান, চারজন নভোচারীই সুস্থ আছেন এবং ক্যাপসুলটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১০ দিনের সময়সীমা থাকলেও নাসা বলছে, ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই এই অভিযান শেষ হলো। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ক্যাপসুলটির গতি ছিল শব্দের গতির ৩২ গুণ। তীব্র ঘর্ষণে তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইটে। এই চরম পরিস্থিতিতে ‘হিট শিল্ড’ ঠিকমতো কাজ করায় মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সফল হয়।
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আয়নিত গ্যাসের স্তর তৈরি হওয়ায় কয়েক মিনিটের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা পরিকল্পিতই ছিল। পরে প্যারাশুটের সাহায্যে ক্যাপসুলটির গতি কমিয়ে নিরাপদে পানিতে নামানো হয়।

উদ্ধারকারী দল দুই ঘণ্টারও কম সময়ে চার নভোচারীকে উদ্ধার করে নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যায়। এই মিশনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নভোচারী রেইড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
এদের মধ্যে গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, কোচ প্রথম নারী এবং হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে চাঁদমুখী মিশনে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েন।নভোচারীরা ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ হওয়া বিশাল রকেটে চড়ে মহাকাশে যাত্রা করেন। চাঁদের অদৃশ্য অংশ ঘুরে আসেন, যা অ্যাপোলো যুগের পর প্রথম।