সর্বশেষ

গাড়িতে ভ্রমণের সময় ঘন ঘন বমি হয় কেন?

গাড়িতে করে কোথাও ভ্রমণের সময় অনেকেরই বমি হয় বা বমি বমি ভাবসহ অসুস্থ বোধ হয় গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটা কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব? মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হলো এমন এক অবস্থা যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এই সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এই সমস্যায় আরো বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সাথে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে। ভারতের দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালী বলেন, “আমরা যখন ভ্রমণ করি, তখন চোখ ও কান থেকে ভিন্ন সংকেত পায় মস্তিষ্ক”। “আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে,” বলেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়। ২০১৫ সালে প্রকাশিত বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা প্রতিবেদন অনুসারে, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনে একজন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছিল যে মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। “মোশন সিকনেসের কারণ হলো আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সাথে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত”। এভাবে ব্যাখ্যা করেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইআইএমএস) নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায় সেগুলো একটির সাথে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরো সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপীত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়। একেবারে সহজ করে বললে, শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ (কারণ আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না)। ডা. ত্রিপাঠি বলেন, “আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়”। ভ্রমণের সময়ে বমি হয় কেন? ভ্রমণে বমি বমি ভাবের যে সমস্যা তা কিন্তু সবার জন্য এক না। কেউ কেউ যাত্রা শুরুর পরপরই অস্বস্তি অনুভব করে, অবার কেউ কেউ দীর্ঘ যাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ডা. মহসিন ওয়ালির মতে, আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায় তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয় যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়। ডা. মহসিন বলেন, এই উপসর্গগুলোকে এক সাথে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। তিনি বলেন যে ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃদ্‌পিন্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারী খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন তাদের বমি হতে পারে। এ জন্য চিকিৎসকেরা ভ্রমণের আগে হালকা খাবার খেতে পরামর্শ দেন। মহসিন ওয়ালি ব্যাখ্যা করেন যে মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্কৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস। ফলে, ভ্রমণে ঘন ঘন বমি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ভ্রমণের সময়ে বমি করা এড়ানোর জন্য কী করবেন এবং কী করবেন না? ভারী খাবার এড়ানো – ডা. ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না— হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স নিশ্চিত করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন— প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না– ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে। বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন। অতিরিক্তি বমিকে উপেক্ষা নয়— আপনি যদি ক্রমাগত বমি করেন, একজন চিকিৎসকের সরণাপন্ন হোন। মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী বই বা মোবাইল ফোনের মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে চলন্ত যানবাহনে বই পড়লে মোশন সিকনেস বাড়তে পারে। শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান। সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান। নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি। আনন্দদায়ক গান শুনুন। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে হালকা ধাঁচের, আনন্দদায়ক গান শুনলে বমি বমি ভাব কমে এবং এতে যাত্রাটি স্বস্তির হয়। এই সমস্যা কী নারীদের বেশি? মানজারি ত্রিপাঠির মতে, পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি। এর ব্যাখ্যায় ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। নিম্ন রক্তচাপের ক্ষেত্রে মোশন সিকনেসের উপসর্গ দ্রুতই দেখা দিতে পারে। আরেকটি কারণ হলো পোশ্চারাল হাইপোটেনশন (এক ধরনের নিম্ন রক্তচাপ)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। মহসিন ওয়ালির মতে, নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত

ভারতে প্রথমবারের মতো ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা যুবককে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি

এই প্রথম পরোক্ষ স্বেচ্ছা মৃত্যুতে অনুমতি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-প্রতীকী ছবি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোমায় আচ্ছন্ন যুবক হরিশ রাণার লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন দীর্ঘদিন ধরে লাইফ সাপোর্টের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এমন রোগী, বা বহু বছর ধরে কোমায় রয়েছেন পুরোপুরি মেডিক্যাল সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল, চিকিৎসার মাধ্যমে যাকে সুস্থ করে তোলার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই- সেই সমস্ত ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক কৃত্রিম সাপোর্ট প্রত্যাহার করে নেওয়াকে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু বলা হয়। ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যু মঞ্জুরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৩১ বছরের হরিশ রাণার পরিবার। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার হরিশ রাণার পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের রায় ঘোষণা করেন। হরিশের বাবা অশোক রাণা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের পরিবারের কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন। আমাদের কাছে এটা খুবই কঠিন। কিন্তু হরিশের জন্য হয়ত ভালো। কিন্তু ওর কথা ভেবে আমরা আদালতে আর্জি জানিয়েছিলাম।” “ও আর ভালো হবে না। সুপ্রিম কোর্টের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে ওর স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।” এর আগে, ২০১৮ সালে মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রথম তার আইনি প্রয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। আদালতের পক্ষ থেকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-কে হরিশ রাণার জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে। পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুতে সায় দেওয়ার পাশাপাশি আদালত তার নজিরবিহীন এই রায়ের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, হরিশ রাণার পরিবার বরাবরই তার পাশে থেকেছে। এই রায়ে ‘যুক্তি’ হয়ত মিলবে না, কিন্তু তাতে ‘ভালোবাসা, জীবন ও হারিয়ে ফেলার’ প্রতিফলন রয়েছে। এর আগেও আদালতের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যু বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম মুম্বাইয়ের অরুণা শানবাগের ঘটনা। কিন্তু সেই সময় অনুমতি দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। তবে এসব মামলা হরিশের মতো দীর্ঘদিন ধরে ভেজিটেটিভ অবস্থায় থাকা রোগীর ক্ষেত্রে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য একটা ক্ষেত্র গড়ে দিয়েছিল। ‘আর কিছু করার নেই’ পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন হরিশ রাণা। পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে, কিন্তু ২০১৩ সালের একটা ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়। চণ্ডীগড়ের একটা বাড়ির চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পান, কোমায় চলে যান। সেই থেকেই পুরোপুরি মেডিক্যাল সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল তিনি। শ্বাস নেওয়ার জন্য তাকে ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবের সাহায্য নিতে হয়। বিশেষ টিউবের মাধ্যমে অত্যাবশ্যক পুষ্টিও দেওয়া হয় তার দেহে। তার পরিবার জানিয়েছে গত ১৩ বছরে সব রকমভাবে চেষ্টা করেছেন তারা, শেষ পুঁজিটুকুও খুইয়েছেন। তার বাবার কথায়, “কিন্তু কিছুই হয়নি। আমরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারি আর কিছু করার নেই।” শেষ পর্যন্ত হরিশ রাণার পরিবার তার স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সময়ে আদালতের তরফে জানানো হয়েছিল যে হরিশ রাণাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়নি, তাই “বাইরে থেকে কোনো সাহায্যে তিনি বাঁচতে সক্ষম”। এরপর তার পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং সেখানেও তাদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আবার তারা আদালতে আবেদন করতে পারেন। এরপর ২০২৫ সালে, তারা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানান হরিশ রাণার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হয়েছে এবং তাকে লাইফ সাপোর্ট মেশিনের মাধ্যমে ‘কৃত্রিমভাবে’ বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। এরপর দুটো মেডিকেল বোর্ড তার অবস্থা মূল্যায়ন করে এবং তারপরই সুপ্রিম কোর্টের ওই মামলা বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। দু’টো মেডিক্যাল বোর্ডই জানিয়েছে যে হরিশ রানার সুস্থ হয়ে ওঠার এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সম্ভাবনা নেই। তার মস্তিষ্কে পার্মানেন্ট ড্যামেজ লক্ষ্য করা গেছে। খাওয়া এবং মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তার বাইরে থেকে সাহায্য প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট কী জানিয়েছে রাণা পরিবার তাদের আবেদনে ২০১৮ সালে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায়ের উল্লেখ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশিকা কিন্তু এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে একজন রোগী ইতোমধ্যে “আগাম নির্দেশিকা” বা “লিভিং উইল” রেখে গেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে রোগী যদি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে জীবনরক্ষাকারী মেডিক্যাল যন্ত্র অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি সেই সমস্ত ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেখানে যেখানে এই ধরনের কোনো লিখিত উইল নেই। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের ওই রায়ে কিছু বদল আনে যাতে মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া কম জটিল এবং আরও বাস্তবসম্মত হয়। এর মধ্যে ছিল মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং এই প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা সীমিত করা। সেই রায়ের উপর ভিত্তি করে (হরিশ রাণার মামলায়) ২০২৬ সলে এই প্রথম এমন অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসকে আদালত জানিয়েছে, হরিশ রাণাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ক্লিনিক্যালি অ্যাডমিনিস্টার্ড নিউট্রিশান প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক। এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, পুরো বিষয়টা এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে রোগী কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হন এবং তার মর্যাদা সর্বোচ্চ স্তরে বজায় থাকে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে জীবনের শেষ পর্যায়ের যত্নের বিষয়ে দেশে কোনো বিস্তৃত আইন নেই। তাই কেন্দ্র সরকারকে এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলেছে। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে হরিশ রাণা কিন্তু কখনোই অযত্নে থাকেননি, “তার পরিবার কখনো তার পাশ থেকে সরে যায়নি… কাউকে ভালোবাসার অর্থ সবচেয়ে অন্ধকার সময়েও তাদের যত্ন নেওয়া। আমাদের আজকের সিদ্ধান্ত যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায় না, তবে এটা প্রেম, জীবন এবং হারিয়ে ফেলার বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে”। ‘আমার আর কিছু চাওয়ার নেই’ এখনো বাড়িতেই যত্ন ও চিকিৎসা চলছে হরিশ রাণার। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর থেকেই বাড়ির কাছে সাংবাদিকদের ভিড়। অশোক রাণা ফোনে বলেছেন, “আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই। বলারও নেই। আমরা আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। এটা শুধুমাত্র হরিশ নয় হরিশের মতো অন্যান্যরাও যেন এমন মানবিক সিদ্ধান্ত পান”। “ও আর কিছুতেই ভালো হবে না জানার পরই বাধ্য হয়ে আদালতের কাছে আর্জি জানাই। আমাদের কাছে খুবই যন্ত্রণার কিন্তু এটা ওর জন্য ভালো।” আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এবার হরিশ রাণাকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে স্থানান্তরিত করা হবে। সেখানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা জীবনের অন্তিম সময়ের পরিষেবা দেওয়া হয় যেখানে, সেই বিভাগে রাখা হবে এবং পিইজি টিউবের মাধ্যমে তার শরীরে যে পুষ্টি যাচ্ছিল তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। অরুণা শানবাগ স্বেচ্ছামৃত্যু বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু যতবারই আলোচনায় এসেছে, ততবারই তাকে কেন্দ্র করে নৈতিক দ্বন্দ্ব আর বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর পক্ষে যেমন অনেকে কথা বলেছেন, অনেকে আবার এই বিরুদ্ধেও বলেছেন। ভারতে এর আগে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়ে আগে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন অনেকে। তার মধ্যে অন্যতম অরুণা শানবাগ মামলা। পেশায় নার্স ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে হাসপাতালের ডিউটি শেষে ফেরার পথে তিনি ধর্ষণের শিকার হন, হাসপাতালেরই এক পুরুষ এতে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গলায় ফাঁস লাগিয়ে নির্যাতনের ফলে তার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের তীব্র অভাব হয়। মারাত্মক

টেস্টোস্টেরন কি ফুরিয়ে যাওয়া যৌন আকাঙ্ক্ষা ফিরিয়ে আনতে পারে?

গবেষকরা বলছেন, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়ার প্রবণতা এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই চিকিৎসায় টেস্টোস্টেরনের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-যৌন আকাঙক্ষা বাড়াতে টেস্টোস্টেরন কি সত্যিই কার্যকর, নাকি এটি অতিরঞ্জিত প্রচারণা? নব্বইয়ের দশকে অ্যালান রিভস নিয়মিত মঞ্চে পারফর্ম করতেন। দ্য ড্রিমবয়েজের সদস্য হিসেবে হাজার হাজার দর্শকের সামনে নিজেকে তুলে ধরতেন। তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। এমনকি স্পাইস গার্লসের চলচ্চিত্র স্পাইস ওয়ার্ল্ড-এও দেখা যায় তাকে। তখন তার বয়স ছিল ২৪ বছর। দেখতে আকর্ষণীয় ছিলেন, এমনটা তিনি নিজেই বলেছেন। কিন্তু ত্রিশে পা দিতেই তার জীবন বদলে যেতে শুরু করে। মন খারাপ থাকত তার। যৌন আকাঙক্ষা প্রায় ফুরিয়ে গেলো। তিনি বলেন, “আমি ঠিক নিজের মতো অনুভব করছিলাম না।” এখন রিভসের বয়স ৫২ বছর। তিনি বলেন, সে সময়ে (৩০ বছর বয়সী থাকাকালে) যৌন আকাঙক্ষা একেবারে কমে যাওয়ার প্রভাব তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে পড়েছিল। “একটা সময়ে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক হতো না। কারণ আমি আগ্রহ পেতাম না।” তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি অনেক সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে। রিভস বর্তমানে লন্ডনভিত্তিক ফিটনেস ও লাইফস্টাইলের একজন কোচ। যৌন আকাঙক্ষা ফুরিয়ে যাওয়ার পর তিনি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা টিআরটি শুরু করেন। তার দাবি, এতে তার লিবিডো ফিরে এসেছে। বৃদ্ধ বোধ করা থেকে আবার ২০ বছর বয়সী তরুণের মতো লাগছে নিজেকে। বিষয়টি অসাধারণ মনে হয় তার। নারীরাও টেস্টোস্টেরনের দিকে ঝুঁকছেন। মেনোপজবিষয়ক ব্লগার ৩৭ বছর বয়সী র‍্যাচেল মেসন বলেন, এই হরমোন তার শক্তি, মনোযোগ এবং যৌন আকাঙক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাজ্যে টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশনের হার দ্রুত বেড়েছে। সরকারি অর্থে পরিচালিত যুক্তরাজ্যের হেলথকেয়ার ব্যবস্থা – ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) বিজনেস অথোরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ জাতীয় চিকিৎসা দেওয়ার হার বেড়েছে ১৩৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা-কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তুলে ধরেছে। এই প্রবণতা এমন এক সময়ে দেখা যাচ্ছে, যখন যুক্তরাজ্যে সামগ্রিকভাবে যৌন সম্পর্কের হার কমছে। ন্যাশনাল সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাটিটিউডস অ্যান্ড লাইফস্টাইলস (ন্যাটসাল)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দশকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেই গবেষণার ফলাফল এই বছরের শেষে প্রকাশিত হবে। এই জরিপ থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যৌন সম্পর্কের হার ধীরে ধীরে কমছে। ১৯৯০ সালে ১৬ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরা গড়ে মাসে পাঁচবার যৌন সম্পর্ক করতেন। ২০০০ সালে তা নেমে আসে চারবারে, আর ২০১০ সালে কমে তা হয় তিনবারে। গবেষকদের ধারণা, এই বছরের শেষে প্রকাশিত নতুন ফলাফলেও এটি কমতে থাকার ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে যৌনতায় আগ্রহ কমার পেছনে তারা নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণকে চিহ্নিত করেননি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে-যৌন আকাঙক্ষা বাড়াতে টেস্টোস্টেরন কি সত্যিই কার্যকর, নাকি এটি অতিরঞ্জিত প্রচারণা? অর্থাৎ, টেস্টোস্টেরন বাড়াতে ওষুধ দেওয়ার মধ্য দিয়ে কিছু লোকের মুনাফা কামিয়ে নেওয়া এবং শারীরিকভাবে উপকার নয়, বরং রোগীর মন ভালো রাখাই কৌশল কি? যৌন আকাঙক্ষা কমছে গবেষকরা বলছেন, যৌন আকাঙক্ষা কমে যাওয়ার প্রবণতা এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। অ্যালান রিভসের যৌন আকাঙক্ষা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু একটি উদাহরণ মাত্র। ন্যাটসালের একাডেমিক পরিচালক সোয়াজিগ ক্লিফটন বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা লক্ষ্য করেছি, সব বয়সী ও শ্রেণির মানুষের মধ্যেই যৌন আকাঙক্ষা কমছে।” “যৌন আকাঙক্ষা কমার কারণ বোঝাতে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নব্বইয়ের দশকের তুলনায় এখন একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতির সংখ্যা কম। তবে দাম্পত্য সম্পকের্র দিকে খেয়াল করলেও যৌন সম্পর্ক কমার প্রবণতাই আমরা দেখি।” আসলে, যৌন ক্রিয়াকলাপের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে বেশি বয়সী, বিবাহিত বা একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতিদের মধ্যে। ক্লিফটন বলেন, যৌন আকাঙক্ষা কেনো কমছে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তিনি বলেন, “আমরা একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে আগের তুলনায় কম যৌন সম্পর্ক কেন করছি তা এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, সেগুলোর কোনোটিই নিশ্চিতভাবে কোনো কারণকে দায়ী করতে পারে না।” এমনটা হওয়ার কারণ বোঝা ও খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে কয়েকটি গবেষণায়। এই গবেষণাগুলো বলছে, যৌন সম্পর্কে অনীহার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ডিজিটাল বিশ্ব। কারণ ডিজিটাল বিশ্ব থেকে মানুষের ‘সুইচ অফ’ করা কঠিন এবং এটি বিকল্প কার্যকলাপের আরও সুযোগ দেয়। জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) ও যৌন থেরাপিস্ট ডা. বেন ডেভিস বলেন, মানুষ এখন ৩০ বছর আগের তুলনায় বেশি মানসিক চাপে থাকে। এটি একটি কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনে এতো কিছু ঘটছে। স্পষ্টতই প্রযুক্তি বড় একটি কারণ, তবে এটির পাশাপাশি মানসিক চাপ, হতাশা ও একাকীত্ব বেড়েছে। এসব কিছু যৌন আকাঙক্ষা কমাতে প্রভাব ফেলে।” এই জটিলতার মধ্যেও এখন টিউব স্টেশন, বাস স্টপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে-“কম লিবিডো? অর্থাৎ যৌন আকাঙক্ষা কমে গেছে? ব্রেন ফগ? ক্লান্ত? টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করানোর সময় এসেছে! আপনার স্বামীর আগ্রহ হারিয়ে গেছে? এটি তার হরমোনের কারণে হতে পারে!” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কম যৌন আকাঙক্ষার জন্য টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি) কি সত্যিই সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে? টেস্টোস্টেরনের কম মাত্রা পুরুষদের যৌন আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে-এই বিষয়টি অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সোসাইটি অব সেক্সচুয়াল মেডিসিনের (বিএসএসএম) সদস্য ও কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক জেফরি হাকেট বলেন, “পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিশ্চিতভাবেই কমছে।” “টেস্টোস্টেরন মাত্রা কমার পেছনে স্থূলতা, টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং অলস জীবনযাপন বড় কারণ। আর যৌন আকাঙক্ষা কমে যাওয়ার পেছনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে থাকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া।” গত ২০ বছরে একাধিক বৃহৎ পরিসরের গবেষণায় পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই মাত্রা কমেছে। তবে হাকেট জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি এতোটা সরল নয়। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকলে যৌন আগ্রহ কম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে যাদের টেস্টোস্টেরন কম, তাদের সবারই যৌন আকাঙক্ষা কম হবে। হাকেট সতর্ক করে বলেন, কম টেস্টোস্টেরন থাকলেই যে সবার যৌন আকাঙক্ষা কমবে, এমন নয়। টেস্টোস্টেরন ‘আমাকে আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে’ মেলিসা গ্রিন প্রায় এক বছর ধরে টেস্টোস্টেরন নিচ্ছেন। তার যৌন আকাঙক্ষা কম থাকার কারণে স্বামীর সঙ্গে বেশ সমস্যা হচ্ছিলো। ৪৩ বছর বয়সী এই নারী বলেন, এটি কেবল তাঁর অদম্য প্রাণশক্তি ও উদ্দীপনা ফিরিয়ে দেয়নি, এটি তার বৈবাহিক সম্পর্ক বাঁচিয়েছে। মেলিসা গ্রিন পেরিমেনোপজে (যেমন-অনিয়মিত পিরিয়ড, মেজাজ পরিবর্তন ইত্যাদি) ছিলেন। মেলিসার জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির অধীনে প্রথমে তাকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন দিলেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখেননি। তাকে বলা হয়েছিলো- অতিরিক্ত হরমোনের প্রয়োজন নেই তার। মেলিসা গ্রিন পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যান এবং রক্ত পরীক্ষা করান। তাঁকে জানানো হয় যে তার হরমোনের মাত্রা কম। সেই পরীক্ষার ফল তিনি তাঁর জিপির কাছে নিয়ে গেলে এনএইচএস-এর মাধ্যমে কিছু টেস্টোস্টেরন পেতে শুরু করেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে অল্প মাত্রায় অতিরিক্ত ডোজও নিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, “এটা যেন আমাকে আমার জীবনটা ফিরিয়ে দিয়েছে। কিছু দিক থেকে মনে হচ্ছে আমি আবার কুড়ির কোঠায় ফিরে গেছি।” “আমার প্রাণশক্তি বেড়েছে, মাথা অনেক বেশি পরিষ্কার লাগে, আর আমার যৌন আকাঙক্ষাও

ঘুম ভাঙাতে লোক ভাড়া করার মতো আরও যেসব পদ্ধতি চালু ছিল একসময়ে

ঘণ্টা, মোরগের ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠার পাশাপাশি ঘুম ভাঙানোর জন্য একসময় পেশাদার লোক নিয়োগ করা হতো সকালে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা যে কী কঠিন কাজ, তা টের পান অনেকেই। তবে যাদের আরামের ঘুম আর প্রিয় বিছানা ছেড়ে সাতসকালে উঠতেই হয়, তাদের জন্য আছে অ্যালার্ম ঘড়ি। কিন্তু অ্যালার্ম যখন ছিল না, ঘুম ভাঙানোর কী উপায় ছিল তখন? অ্যালার্ম ঘড়ি প্রচলনের আগে মানুষের ঘুম ভাঙানোর বিচিত্র সব পদ্ধতি ছিল, যার অন্যতম হলো ঘুম ভাঙানোর জন্য লোক ভাড়া করা। এছাড়াও এক বিশেষ মোমবাতির ব্যবহার করা হত, যা গলে গিয়ে প্রতি ঘণ্টায় একটা করে পেরেক নিচে পড়ে আওয়াজ হতো। এছাড়া মোরগ পোষার উদাহরণ রয়েছে। তবে ব্রিটেনের শিল্প-বিপ্লবের যুগে ‘নকার আপার্স’ বা ঘুম ভাঙানোর জন্য লোক ভাড়া করার ব্যবস্থাটা ছিল চমকে দেওয়ার মতো। সাধারণ বাংলা করলে বিচিত্র এই পেশার অর্থ দাঁড়ায় যারা ধাক্কা মেরে ঘুম থেকে তুলে দেয়। এখন যেমন অ্যালার্ম ঘড়ি বন্ধ করেও অনেকে আরও একটু ঘুমিয়ে নেন, এই ‘নকার আপার্স’দের হাতে পড়লে কিন্তু সেই সুযোগ থাকত না। যতক্ষণ না ঘুম থেকে উঠছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা নড়তেনই না। নর্থ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহযোগী প্রফেসর অরুণিমা দত্ত বলছেন যে, রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বা কখনো পুরো এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজা বা জানালায় টোকা মারতেন এই ‘নকার আপার্স’রা, আবার জানালা দিয়ে ঘুমন্ত মানুষটির দিকে মটরদানাও ছুঁড়ে মারতেন তারা। ব্রিটেনের শিল্প-বিপ্লবের যুগে নতুন কলকারখানাগুলো শ্রমিকদের ঘুম ভাঙানোর জন্য নানা পদ্ধতি বের করেছিল। কারখানায় কাজের সময় নিয়ে বেশ কড়াকড়ি ছিল। কর্মীরা কখন কাজ শুরু করবেন তা ছিল একেবারে নির্দিষ্ট করা। মাত্র পাঁচ মিনিট দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারত, আর তাতে মালিকের ক্ষতি। তাই সময় মতো ঘুম থেকে ওঠার জন্য, বিশেষ করে শীতকালের অন্ধকার ভোরগুলোতে। সেই সময় প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যালার্ম ঘড়ি পাওয়া গেলেও একজন সাধারণ কর্মীর কাছে তা ছিল বেশ দামী। শ্রমিকদের সময় মতো ঘুম ভাঙানোর উদ্দেশ্যে কারখানাগুলো হুইসল বা ঘণ্টার ব্যবহার করতে শুরু করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো নির্ভরযোগ্য ছিল না। তখনই আবির্ভাব হয় ‘নকার আপার্স’দের। অরুনিমা দত্ত জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘নকার আপার্স’-এর মতো ব্যবস্থার চল দেখা যায়, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রমজান মাসে, যখন নামাজ পড়ার জন্য ভোরে উঠতে হয় আর ভোরের আগে সেহেরি সেরে নিতে হয়। ঘুম থেকে সময় মতো ওঠার জন্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহারের অনেক উদাহরণ রয়েছে ইতিহাসে। বিশেষজ্ঞদের মতে সেই সময়কার ঘুমের ধরণ আর সকালে ওঠা নিয়ে নানা তথ্য এখনো উপযোগী। ভালো ঘুমের ক্ষেত্রেও এই তথ্যগুলো আমাদের সাহায্য করতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি অনুভূত হতে শুরু করেছে, তা আপনি পৃথিবীর যেখানেই বাস করুন না কেন। যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলাে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায়, সরবরাহের যে ঘাটতি তা তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে গিয়ে উঠেছিল। যদিও পরে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো অনেক বেশি দামে তেল কেনাবেচা হচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, দেশে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

জ্বালানি তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি নিতে ঢাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে লম্বা লাইনে যানবাহনের অপেক্ষা। কখনো লাইনে দাড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা, আবার কখনো চাহিদা মতো জ্বালানি না পেয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘আপাতত জ্বালানি সংকট নেই’ এমন বার্তা দেওয়া হলেও অস্থিরতা কাটেনি। বরং জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকে। গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি অনেকটা এমনই। কেবল বাংলাদেশ নয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা অমূলক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তাটা বেশি বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগেভাগেই প্রস্তুতি না থাকলে সংকট মোকাবেলা কঠিন হতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত কয়েকদিনে জ্বালানি নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কতটা কমেছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ঈদের পরই নতুন সরকারের সামনে যে বড় তিন চ্যালেঞ্জ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার, ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা ছবি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও শিল্প-কলকারখানাসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে। আর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও ঠিক সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। পুরোপুরি স্থির নয় রাজনীতির ময়দানও। সব মিলিয়ে ঈদের পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে মাত্র এক মাস আগেই গঠিত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা – মোটাদাগে এই তিনটিই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। তারা বলছেন, দীর্ঘ দিনের একটি বিশেষ পরিস্থিতির পর দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মেটানোই নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি। এছাড়া নির্বাচনের আগে সরকারি দল তাদের ইশতেহারে প্রত্যাশা পূরণে যেসব বার্তা দিয়েছে সেগুলো তারা কতটা ধারণ করতে পারে – সেদিকেও নজর থাকবে সাধারণ মানুষের। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ নানা ইস্যু রাজনৈতিকভাবেও নতুন সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর ঈদের পর দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটি মানছেন সরকারের মন্ত্রীরাও। তারা বলছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরই দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার, ঈদের পর যার গতি আরও বাড়বে।

সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে প্রথম দফায় প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ছয় বিএনপি নেতা বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের পর ৪২টি জেলা পরিষদেও দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের উল্লসিত করলেও প্রশ্ন উঠছে যে, স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি নেতাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পরিণত হল কি-না। সরকারের দিক থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করার জন্য সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক বসানো হয়েছে। একই সাথে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনে ভালো কাজ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসক পদেও সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা ‘বেটার চয়েজ’ কিন্তু দলীয় নেতাদের প্রশাসক করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত হবার এবং এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় কর্তৃত্ব স্থাপনের একটি চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে আশংকা তাদের। । সরকার ইতোমধ্যেই দেশের সব সিটি কর্পোরেশন থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এসব নেতাদের কেউ কেউ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়েও হেরে গেছেন কিংবা আবার কেউ কেউ তখন দলীয় মনোনয়ন পাননি। সর্বশেষ রোববার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদের দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন প্রশাসক নিয়োগের ফলে জেলা পরিষদসমূহের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কর্মদিবসেই এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং প্রায় ৪ হাজার ৫৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

যে পাঁচটি জিনিস বলে দেবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি ‘অনির্বাচিত’ সরকার – দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে। সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে ‘ডিল’ করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই। এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছরের একটা ‘পজ’ বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি।

বিএনপি সরকারের এক মাস, কী বার্তা পাওয়া গেল

তারেক রহমান বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। ফলে এই এক মাসে সরকারের দিক থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা যেসব পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে তা কী বার্তা দিচ্ছে- এই আলোচনাও হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা খাল খনন কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়গুলো যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি দলের সমর্থক এক ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে সমালোচনাও আছে। নির্বাচনের আগে থেকেই চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রতিপক্ষের দিক থেকে তীব্রভাবে সমালোচনার মুখে থাকা বিএনপি সরকারের গঠনের পরেও এটিকে কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে সেই প্রশ্নও আছে। সমালোচনা হয়েছে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও। এছাড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে সিটি কর্পোরেশন ও ৪২ জেলায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের মতো দলের সমর্থক শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। সরকারের দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সরকারের প্রথম ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ প্রকাশ করে একে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি এসব পদক্ষেপ ‘সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে’। প্রসঙ্গত, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এরপর ১৭ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে। এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেছিলেন প্রায় সতের বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমান। ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের সূচনা ও অর্থনীতি সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে, সরকার গঠনের পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং এজন্য এবার একশ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক শেষে গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “সরকারের প্রথম দিন একটা কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা সবাই বসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। ‘সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। আমরা এবার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি”। যদিও সেই ১৮০ দিনের পরিকল্পনা কোন কোন বিষয় থাকছে তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচিত ইস্যু ছিল ফ্যামিলি কার্ড। নির্বাচনী প্রচারেও এটি ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ই মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নারীপ্রধান পরিবারের নামে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীকে এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুপ করা হয়েছে এবং প্রায় ২৭ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হচ্ছে। বিএনপির আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি দলীয় ও সরকারিভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিবিদ ডঃ মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, “এগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ। সামাজিক সুরক্ষায় দরিদ্ররা স্বস্তি পাবে। কিন্তু বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প নেই। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো না গেলে ঋণ ফাঁদে পড়তে হবে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে। দেখতে হবে সরকার বাজেটে এসব বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়”। তিনি বলেন, কৃষি ঋণ মওকুপ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো পদক্ষেপগুলো একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যে সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের চিন্তা করছে। “কোন প্রেক্ষাপটে সরকার শুরু করেছে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। পুঞ্জিভূত কিছু সমস্যা অন্তর্বর্তী সরকার নিরসনের চেষ্টা হয়তো করেছে। কিন্তু এখনো মূল্যস্ফীতি উচ্চস্তরে, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আসেনি ও এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়েনি। সামনে বাজেটে সরকার এসব বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয় সেটি দেখতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি। মি. রহমান বলেন, সরকার ব্যাংকিং সেক্টরে সংস্কারের কথা বলেছে কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ থকে আহসান মনসুরকে যেভাবে যেতে হয়েছে তা উচিত হয়নি। এখন আবার নতুন গভর্নরকেও মূল্যায়নের জন্য সময় দিতে হবে। নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি কূটনীতি, ভারতের সাথে সম্পর্ক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্কের উত্তরণ কিভাবে হবে তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল নানা মহলে। যদিও নতুন সরকারের শুরুতেই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা। আবার নির্বাচনের পরদিন তারেক রহমানকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোনালাপের পর মি. রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের যোগদান এবং এরপর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের তৎপরতায় অনেকেই মনে করছেন সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ার সূচনা করতে পেরেছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিগগিরই দু দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবার আশা করছেন অনেকে। পাশাপাশি সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের দিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘সব দেশের সঙ্গেই আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে, আমাদের ইস্যু রয়েছে। সেই ইস্যুগুলো সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে আমাদের এগোতে হবে। আমাদের স্বার্থ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সুরক্ষিত করা।’ তিনি তখন আরও বলেছিলেন, “গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যে রকম হওয়া উচিত, বাংলাদেশের মেরুদণ্ড সোজা করে, বাংলাদেশ সকল দেশের সঙ্গে, সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, কথা বলবে ও বন্ধুত্ব রাখবে”। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা চুক্তির বিষয়টি নতুন সরকার কিভাবে সামাল দিবে তা এখনো অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়। খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, সরকারের যাত্রা ইতিবাচক হয়েছে কিন্তু সামনে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসার কি হবে, পুশ ইন ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ট্যারিফ চুক্তির চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকার কী করে সেগুলো ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করবে। “ভারত ইস্যুতে বাংলাদেশের দিক থেকে কিছু উদ্যোগ দেখছি। বাংলাদেশ ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। দু দেশের মধ্যে বাস যোগাযোগ শুরু হয়েছে। এগুলো সম্পর্ক শুরুর ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে জুলাই পরবর্তী সময়ে আত্মমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার প্রত্যাশা আছে জনমনে। হয়তো সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিই হতে পারে সেই প্রত্যাশার ভিত্তি,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। ওদিকে তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া চার জন রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর সমালোচনা হয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া নিয়ে। কমনওয়েলথের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিমানবন্দরে দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ‘সুখবর’ হিসেবে আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহারের কথা জানান। এ নিয়ে পররাষ্ট্র দফতরের পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার খবর এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। “যেভাবে লন্ডনে হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions