
ঘণ্টা, মোরগের ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠার পাশাপাশি ঘুম ভাঙানোর জন্য একসময় পেশাদার লোক নিয়োগ করা হতো
সকালে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা যে কী কঠিন কাজ, তা টের পান অনেকেই। তবে যাদের আরামের ঘুম আর প্রিয় বিছানা ছেড়ে সাতসকালে উঠতেই হয়, তাদের জন্য আছে অ্যালার্ম ঘড়ি। কিন্তু অ্যালার্ম যখন ছিল না, ঘুম ভাঙানোর কী উপায় ছিল তখন?
অ্যালার্ম ঘড়ি প্রচলনের আগে মানুষের ঘুম ভাঙানোর বিচিত্র সব পদ্ধতি ছিল, যার অন্যতম হলো ঘুম ভাঙানোর জন্য লোক ভাড়া করা।
এছাড়াও এক বিশেষ মোমবাতির ব্যবহার করা হত, যা গলে গিয়ে প্রতি ঘণ্টায় একটা করে পেরেক নিচে পড়ে আওয়াজ হতো। এছাড়া মোরগ পোষার উদাহরণ রয়েছে। তবে ব্রিটেনের শিল্প-বিপ্লবের যুগে ‘নকার আপার্স’ বা ঘুম ভাঙানোর জন্য লোক ভাড়া করার ব্যবস্থাটা ছিল চমকে দেওয়ার মতো।
সাধারণ বাংলা করলে বিচিত্র এই পেশার অর্থ দাঁড়ায় যারা ধাক্কা মেরে ঘুম থেকে তুলে দেয়।
এখন যেমন অ্যালার্ম ঘড়ি বন্ধ করেও অনেকে আরও একটু ঘুমিয়ে নেন, এই ‘নকার আপার্স’দের হাতে পড়লে কিন্তু সেই সুযোগ থাকত না। যতক্ষণ না ঘুম থেকে উঠছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা নড়তেনই না।
নর্থ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহযোগী প্রফেসর অরুণিমা দত্ত বলছেন যে, রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বা কখনো পুরো এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজা বা জানালায় টোকা মারতেন এই ‘নকার আপার্স’রা, আবার জানালা দিয়ে ঘুমন্ত মানুষটির দিকে মটরদানাও ছুঁড়ে মারতেন তারা।
ব্রিটেনের শিল্প-বিপ্লবের যুগে নতুন কলকারখানাগুলো শ্রমিকদের ঘুম ভাঙানোর জন্য নানা পদ্ধতি বের করেছিল।
কারখানায় কাজের সময় নিয়ে বেশ কড়াকড়ি ছিল। কর্মীরা কখন কাজ শুরু করবেন তা ছিল একেবারে নির্দিষ্ট করা। মাত্র পাঁচ মিনিট দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারত, আর তাতে মালিকের ক্ষতি।
তাই সময় মতো ঘুম থেকে ওঠার জন্য, বিশেষ করে শীতকালের অন্ধকার ভোরগুলোতে। সেই সময় প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যালার্ম ঘড়ি পাওয়া গেলেও একজন সাধারণ কর্মীর কাছে তা ছিল বেশ দামী।
শ্রমিকদের সময় মতো ঘুম ভাঙানোর উদ্দেশ্যে কারখানাগুলো হুইসল বা ঘণ্টার ব্যবহার করতে শুরু করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো নির্ভরযোগ্য ছিল না।
তখনই আবির্ভাব হয় ‘নকার আপার্স’দের।
অরুনিমা দত্ত জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘নকার আপার্স’-এর মতো ব্যবস্থার চল দেখা যায়, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রমজান মাসে, যখন নামাজ পড়ার জন্য ভোরে উঠতে হয় আর ভোরের আগে সেহেরি সেরে নিতে হয়।
ঘুম থেকে সময় মতো ওঠার জন্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহারের অনেক উদাহরণ রয়েছে ইতিহাসে। বিশেষজ্ঞদের মতে সেই সময়কার ঘুমের ধরণ আর সকালে ওঠা নিয়ে নানা তথ্য এখনো উপযোগী। ভালো ঘুমের ক্ষেত্রেও এই তথ্যগুলো আমাদের সাহায্য করতে পারে।