চাঁদের কাছাকাছি ঐতিহাসিক উড্ডয়ন শেষে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস টু মিশনের ৪ নভোচারী। দীর্ঘ ৫৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়েন।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, উড্ডয়ন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, ওরিয়ন মহাকাশযান এখন পৃথিবীর পথে রয়েছে। এই মিশনে অংশ নিয়েছেন রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক। তাদের সঙ্গে ছিলেন কানাডার মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

চাঁদের পেছন দিক অতিক্রমের সময় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেই সময়ই নভোচারীরা অরোরাজ বা চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর উদয়ের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে কখনো দেখা যায় না, সেই দূরবর্তী পৃষ্ঠের বেশ কিছু ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন।
মিশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা। ওরিয়ন মহাকাশযানের অবস্থান থেকে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর এক সরলরেখায় অবস্থানের বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন নভোচারীরা। মহাকাশ গবেষকদের মতে- এ ধরনের অবস্থান ভবিষ্যৎ গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য মূল্যবান পর্যবেক্ষণের তথ্য দেবে।

এদিকে, দীর্ঘ ৫৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন আর্টেমিস টু মিশনের ৪ নভোচারী। ১৯৭০ সালের এপ্রিল ৮ লাখ ১৭১ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল অ্যাপোলো ১৩ মিশন। সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ৩টা ৫৮ মিনিটে এই দূরত্ব অতিক্রম করেন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।
চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে প্রদক্ষিণে এই মিশনটি মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ২৩টা ০৭ মিনিটে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছেছে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব হবে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার।
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষ হওয়ার পর, নভোচারীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভোচারীরা ইতিহাস সৃষ্টি করে আমেরিকানদের গর্বিত করেছেন বলে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের অদূরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে মহাকাশযানটি।
আর্টেমিস-২ হলো চাঁদযাত্রী মানব অভিযানের নতুন অধ্যায়। এটি ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও অবতরণ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।