সর্বশেষ

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

ইস্টার সানডে উপলক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ৩২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শনিবার বিকেল থেকে রোববার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে সংঘাত। কিয়েভের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, রাশিয়ার এই পদক্ষেপে সাড়া দেয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, মস্কো সময় শনিবার বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়ে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে।  অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপনের সময়কে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  রাশিয়ার পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ইউক্রেনও একইভাবে এই বিরতি মেনে চলবে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ সেনাবাহিনীকে এই সময় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোনো পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন আগেই এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তারাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত। তিনি মনে করেন, মানুষের জন্য নিরাপদভাবে ইস্টার উদযাপন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির একটি সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে একাধিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নতুন নয়। গত বছরও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের অভিযোগে তা ভেঙে পড়ে। এদিকে বড় পরিসরে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি খুব একটা নেই। দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এটি নতুন শান্তি প্রক্রিয়ার ইঙ্গিতও নয়। যদিও যুদ্ধ চলছে, তবুও কিছু মানবিক যোগাযোগ বজায় আছে। সম্প্রতি দুই দেশ নিহত সৈন্যদের মরদেহ বিনিময় করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তুরস্ক এই ধরনের প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করে থাকে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও কঠিন সময় আসছে। তার মতে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়বে, এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টা ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমিত পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি পেরোনোর অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।  ফলে এটি এটি আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ দিন ধরে আটকে থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর শুক্রবার সকালে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। অনুমতি না পাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এখন সেটি আবার শারজা বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুরো পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলে এখনো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এজন্যই জাহাজ চলাচলে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ক্লিয়ারেন্স চেয়েছিল। তবে সেই আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জাহাজটি এখনো প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় এটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে প্রতিদিন প্রায় ১৮ টন মিঠা পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও, ইঞ্জিনের চাপ কমাতে এখন সেটি সীমিত করে দৈনিক প্রায় ৬ টনে রাখা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনের খাবার ভাতা ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি মৌলিক বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত যুদ্ধ ভাতাও পাচ্ছেন তারা। বিএসসি সূত্রে জানা যায়, জাহাজটি ভারত থেকে যাত্রা করে ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরপরই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকায় বিএসসি সেটিকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার একাধিক চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত জাহাজটি নিরাপদে যাত্রার অনুমতি পায়নি। উল্লেখ্য, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিএসসি বহরের নতুন জাহাজগুলোর একটি, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্ত হয়েছে।

দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধব্বংসে পথে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধব্বংসে পথে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতির সংকট নিয়ে আবারও উদ্বেগের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চাপে রয়েছে। এতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতও দুর্বল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি। দুর্নীতি ও ভুল নীতির প্রভাব অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে গেছে। আগে যেখানে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি ছিল, এখন তা কমে গেছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে জানান তিনি। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে কৃষিতে কাজ করছে, কিন্তু সেখানে আয় কম হওয়ায় তাদের জীবনে উন্নতি আসছে না। কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার সংকট তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষি খাতে বেশি মানুষ কাজ করলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান কম। এটি কম উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়। অর্থনীতিতে ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থান ছাড়া প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ছে। এছাড়া সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে। টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে। ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের দুর্বলতা অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগও কমেছে। রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সরকারের আয় বাড়েনি। বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের কারণে বিপুল অর্থ অপচয় ও বিদেশে পাচারের অভিযোগও তোলেন। ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সুদ পরিশোধের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এতে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছেন। সবশেষে তিনি বলেন, অর্থনীতির সংকট কাটিয়ে উঠতে সঠিক পরিকল্পনা ও সুশাসন প্রয়োজন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions