অর্থনীতির সংকট নিয়ে আবারও উদ্বেগের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চাপে রয়েছে। এতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতও দুর্বল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।
দুর্নীতি ও ভুল নীতির প্রভাব
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে গেছে। আগে যেখানে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি ছিল, এখন তা কমে গেছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।
শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে জানান তিনি। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে কৃষিতে কাজ করছে, কিন্তু সেখানে আয় কম হওয়ায় তাদের জীবনে উন্নতি আসছে না।

কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার সংকট
তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষি খাতে বেশি মানুষ কাজ করলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান কম। এটি কম উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়। অর্থনীতিতে ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থান ছাড়া প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ছে।
এছাড়া সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে। টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে।
ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের দুর্বলতা
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগও কমেছে। রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সরকারের আয় বাড়েনি।
বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের কারণে বিপুল অর্থ অপচয় ও বিদেশে পাচারের অভিযোগও তোলেন।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সুদ পরিশোধের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এতে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, অর্থনীতির সংকট কাটিয়ে উঠতে সঠিক পরিকল্পনা ও সুশাসন প্রয়োজন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।