শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: ফজলুর রহমান

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে।’ ‘যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম,’ বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’ ‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ।’ ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ,’ বলেন তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালন গীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’ ‘তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য,’ বলেন তিনি। এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেবো, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেবো। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।’
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

দেশের জ্বালানি ইতিহাসে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এবং পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশের তালিকায় যুক্ত হলো। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি লোডিং শেষ হলে কেন্দ্রটিতে চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স দেয়, যার ফলে জ্বালানি লোডিংয়ের পথ সুগম হয়। রাশিয়ার সহযোগিতায় ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে বায়ুচাপের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলে ও নৌযানগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে উপকূলের নিকটবর্তী এলাকায় সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই অস্থিরতার কারণে সাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে পারে, ফলে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলে ও ট্রলার মালিকদের গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ চ্যাম্পিয়ন

জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ প্রথমবার ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।এটিই তার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় সাফল্য। প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী তমা রশিদ জিতেন বিজয়ের মুকুট। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং নারীদের আত্মবিশ্বা, সক্ষমতা ও ইতিবাচক গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক সুযোগ। তমা রশিদ বলেন, ‘কখনো চিন্তাও করিনি এই বিজয়ের মুকুট আমার মাথায় উঠবে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। যারা আমাকে ভোট দিয়ে সমর্থন করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ মাস নিজেকে প্রস্তুত করেছি এই প্রযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য। কাজ ও প্রস্তুতির জন্য গত দুই মাস তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারিনি। এর জন্য অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল তা গোছাতে হয়েছে। ৪০টি দেশের মতো প্রতিযোগিরা অংশ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন রাউন্ডে কমতে কমতে ফাইনাল হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হয়েছে। আমাদের একই নম্বর ছিল। এ নিয়ে বেশ প্রতিযোগিতা হয়েছে। কঠিন ভাবে আমাদের লড়াই করে বিজয়ী হয়েছি। বাংলাদেশে প্রথম আমি বিজয় এনেছি। এটা দেশের জন্যও গর্ব। আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে দুই জনকে পাঠাতে চাই। তারাও যাতে ভালো কিছু করে আসে।’ এর আগেও তমা রশিদ দেশের বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনা এবং কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার জন্য দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের নানা দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। ২০ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ধাপে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ দেন। প্রতিযোগিরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন। নিজেদের ব্যক্তিত্ব তুলে ধরেন ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। পুরো প্রতিযোগিতায় তমা রশিদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিটি ধাপে অংশ নেন। তার স্পষ্ট কথা বলার দক্ষতা, সুন্দর উপস্থাপনা ও দৃঢ় মনোভাব বিচারকদের মুগ্ধ করে। ছোটবেলা থেকেই তমা রশিদ সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নাচ, অভিনয় ও উপস্থাপনার মতো কাজে তার আগ্রহ ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তীতে মিডিয়া জগতে কাজ করতে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে তমা রশিদ প্রমাণ করেছেন যে, বাংলাদেশের নারীরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমানভাবে সফল হতে পারেন। তার এই অর্জন দেশের অনেক তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে। নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করতে পারবে। অনেকের মতে, তমা রশিদের এই সাফল্য বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বে আরও উজ্জ্বল করবে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং বড় লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে।