চীন সম্প্রতি তাদের রপ্তানি নীতি ও কর কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কার এনেছে। নতুন এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অনানুষ্ঠানিক ট্রেডিং মডেল বন্ধ করা, বৈশ্বিক বাণিজ্যে কঠোর মান ও কর পরিপালন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

নতুন নীতির আওতায় তৃতীয় পক্ষের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য কোনো বৈধ আইনি বা কর শনাক্তকরণ ছাড়া অন্য কোনো ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমে রপ্তানির যে অনানুষ্ঠানিক চর্চা ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে কঠোর শুল্ক ও কর পরিপালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বাড়াতে শুল্কমুক্ত সুবিধাও সম্প্রসারণ করেছে চীন। দেশটি আফ্রিকার ৫৩টি দেশের জন্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নীতি কার্যকর করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDC) প্রায় ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা অব্যাহত রেখেছে।

চীনের চলমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশটির নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রচলিত শ্রমঘন শিল্পের পাশাপাশি উদ্ভাবন, উচ্চপ্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদনভিত্তিক পণ্যের রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে চীনের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে। তবে এর ফলে কিছু দেশের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নতুন বাণিজ্য সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।