উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রশংসায় ভাসছে স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা

সিনেমাটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই একে ‘গত দুই দশকে স্টিভেন স্পিলবার্গের সেরা চলচ্চিত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের মতে, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, রহস্য ও প্রেমের মনোমুগ্ধকর সমন্বয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে স্পিলবার্গের স্বাক্ষরধর্মী গল্প বলার জাদু আবারও ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা Emily Blunt-এর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক সমালোচক মনে করছেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। সিনেমাটির পূর্ণ কাহিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রকাশিত তথ্য ও ট্রেলার থেকে জানা যায়, “Disclosure Day” মূলত একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি (Sci-Fi) থ্রিলার, যেখানে পৃথিবীর মানুষ জানতে পারে যে তারা মহাবিশ্বে একা নয়। গল্পে Emily Blunt একজন আবহাওয়াবিদ বা টেলিভিশন আবহাওয়া উপস্থাপকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সরাসরি সম্প্রচারের সময় এক রহস্যময় ভিনগ্রহী ঘটনার মুখোমুখি হন। অন্যদিকে Josh O’Connor এমন এক ব্যক্তির চরিত্রে রয়েছেন, যিনি সরকারের গোপন নথি ফাঁস করে ভিনগ্রহী জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের গোপন তথ্য প্রকাশের চেষ্টা করেন। সমালোচকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি শুধু UFO বা এলিয়েন নিয়ে একটি সিনেমা নয়; বরং রহস্য, ষড়যন্ত্র, প্রেম, মানবিক সম্পর্ক এবং সত্য উদ্ঘাটনের সংগ্রামকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সরকারি গোপনীয়তা, অজানা শক্তির উপস্থিতি এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। অনেক সমালোচক সিনেমাটিকে Spielberg-এর ক্লাসিক E.T. the Extra-Terrestrial এবং Close Encounters of the Third Kind-এর আবহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের মতে, এটি একদিকে রহস্যময় UFO থ্রিলার, অন্যদিকে গভীর আবেগময় মানবিক গল্তবে নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে গল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোপন রেখেছেন, যাতে দর্শকরা হলে গিয়ে চমকগুলো উপভোগ করতে পারেন। �
সাহস, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রচিন্তার এক অনন্য অধ্যায়: শহীদ জিয়াকে নিয়ে ড. সুকোমল বড়ুয়ার মূল্যায়ন

স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, বৌদ্ধতাত্ত্বিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। ফাইল ছবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাদের অবদান সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। তাঁর নেতৃত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা, কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার নানা দিক তুলে ধরেছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ । ড. বড়ুয়ার মতে, জিয়াউর রহমানকে মূল্যায়ন করতে হলে শুধু তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার সময়কালকে বিবেচনায় নিলেই চলবে না। তাঁর সাহস, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা এবং মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের দিকগুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী নেতৃত্ব১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ড. বড়ুয়া বলেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ দমন-পীড়নের মুখে জিয়াউর রহমান যে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সেই সময়ে অনেক জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও কেন জিয়াউর রহমানই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন? তাঁর মতে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জিয়ার অসাধারণ নেতৃত্বগুণ ও মানসিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জাতীয় নেতৃত্বেবগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি ইউনিয়নে শহীদ জিয়ার জন্মভিটা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. বড়ুয়া বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তান হয়ে জাতীয় নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছানো সহজ বিষয় নয়। এর পেছনে ছিল তাঁর অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি। পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তড. বড়ুয়ার ভাষায়, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। তিনি এমন এক সময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন, যখন অনেকেই দেশটির ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করতে পারেননি। পাশাপাশি জাপান, থাইল্যান্ডসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার অংশ ছিল বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনড. বড়ুয়ার মতে, জিয়াউর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা প্রতিষ্ঠা। তিনি এমন একটি জাতীয় পরিচয়ের কথা বলেন, যা দেশের সব জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় সংহতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।উন্নয়ন ও জনকল্যাণের রাষ্ট্রদর্শনস্বল্প সময়ের শাসনামলেও দেশের অর্থনীতি, কৃষি, নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে জিয়াউর রহমানের নানা উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন ড. বড়ুয়া। তাঁর মতে, খাল খনন কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ, পোশাক শিল্পের বিকাশ এবং নারী ও শিশু উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছে। সাধারণ মানুষের নেতারাষ্ট্রপতি হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল জিয়াউর রহমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ড. বড়ুয়া স্মরণ করেন, খাল খনন কর্মসূচিতে সাধারণ পোশাকে কাদামাটির মধ্যে নেমে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এমন দৃশ্য মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার পৃষ্ঠপোষকসামরিক পেশায় দীর্ঘ সময় কাটালেও শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি জিয়াউর রহমানের আগ্রহ ছিল গভীর। স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননার প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি দেশের জ্ঞানী-গুণীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। ইতিহাসের আলোয় মূল্যায়নড. সুকোমল বড়ুয়ার মতে, শহীদ জিয়াউর রহমানকে বুঝতে হলে তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, রাষ্ট্রদর্শন, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয়তাবাদী চিন্তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, “শহীদ জিয়াকে বুঝতে হলে অনেক বিষয়ের গভীরে যেতে হবে; শুধু উপরের দৃশ্য দেখে তাঁর অবদান অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ, কঠোরভাবে খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়েদিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তারা এ ধরনের দুঃসাহস কীভাবে দেখানোর সুযোগ পেল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেনস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রেরঅভয়ারণ্য থাকবে না।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি এবং রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের ফলে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তেররাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে, যার অন্যতম উদাহরণ জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীকর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের বাসভবনে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার পর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সিসিটিভিনির্ভরসমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্য শতভাগ অর্জন সম্ভব হয়নি। র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্পভেঙে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং এর পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার।জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাইআমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিভিন্ন কারণে এখানে বসতি স্থাপনকারী প্রকৃত বাসিন্দাদের কাউকে আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। তাদেরটেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।” উচ্ছেদ নিয়ে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি। এলাকার উন্নয়নের অংশ হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরকে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারমহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর অবকাঠামো উন্নয়নএবং প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরেরদীর্ঘদিনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকাগুলো থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূলকরতে সরকার বদ্ধপরিকর।