সর্বশেষ

মমতাসহ তৃণমূলের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনের নিজ আসনে পরাজয়

দলটির সরকারে থাকা ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই নিজেদের আসনে হেরে গেছেন। অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রী বিজয়ী হতে পারেননি। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। তিনি কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে গেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রীও এ নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।  আবাসন ও বিদ্যুৎ, শিক্ষা, শিল্প, পরিবহন, নারী ও শিশুকল্যাণ, তপশিলি ও অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এই তালিকায় রয়েছেন।

বিজেপির উত্থানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পক্ষে শক্তিশালী জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরও পড়েছে।

৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ

আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা জানিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিনটি রবীন্দ্রজয়ন্তী হওয়ায় নতুন সরকার গঠনে একটি প্রতীকী তাৎপর্যও দেখা যাচ্ছে।

মমতাসহ তৃণমূলের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনের নিজ আসনে পরাজয়
সংগৃহীত

বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়, শেষ তৃণমূল শাসন

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি ২০৬টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী

যদিও এখনো নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিশ্চিত হয়নি, তবে সম্ভাব্যদের তালিকায় এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি এবং শঙ্কর ঘোষ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

২০১১ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। ২০১৯ সালে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পায়।  ২০২১ সালে ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়।  এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যারা কেন্দ্রেও ক্ষমতায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়ের পর বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে” এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে ১০০টিরও বেশি আসনে ফলাফল “লুট” করা হয়েছে।  তিনি ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার এই দাবির সঙ্গে একমত হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল “চুরি” করা হয়েছে।

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions