তিস্তাপাড়ের মানুষের ‘বাঁচা-মরার’ প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকতে চায় না বাংলাদেশ। বরং এই প্রান্তের উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালাতে আগ্রহী। তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চীন সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর শুধুমাত্র ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে চায় না। তাই তিস্তা নদী কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খোঁজা হচ্ছে।
২০১১ সাল থেকে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতায় চুক্তিটি আটকে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ পানির সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার “তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট” গ্রহণ করে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো নদী তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো। এই প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে। যেখানে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে বলে জানা যায়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই তিস্তা প্রকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি ভারতও পরবর্তীতে প্রকল্পে আগ্রহ দেখালেও রাজনৈতিক জটিলতায় বিষয়টি অনিশ্চিত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে “ইকোলজিক্যাল সংকট” ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই সরকার একাধিক বিকল্প পথ খুঁজে দ্রুত সমাধান আনতে চায়, যাতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সব মিলিয়ে, তিস্তা চুক্তি এখন শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশ-চীন উন্নয়ন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।