দেশে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশের বেশি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে, মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
টানা কয়েক মাস ওঠানামার পর মার্চে কিছুটা স্বস্তি এলেও এপ্রিল মাসে আবারও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বাজারে দামের চাপ এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ধরা হচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম বাড়ায়। ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষকে একই পণ্য আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়।
বিবিএসের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর। আয় না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেকেই ব্যয় কমাতে বাধ্য হন।
এদিকে বাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও কিছুটা বেড়েছে, যদিও চালের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে এপ্রিল মাসে দেশে গড় মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। ফলে বাস্তব হিসেবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং দৈনন্দিন খরচ মেটানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয় ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে এই ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ বাধ্য হয় ঋণের ওপর নির্ভর করতে বা খাবার, পোশাক ও অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে।