চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাজেট সহায়তা হিসেবে আমাদের ১ বিলিয়নের মতো ডলার দিতে তারা (এডিবি) সম্মত আছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যেই ছাড় করবে। আগামী দিনে প্রয়োজনে এটা (অর্থ) বাড়তেও পারে। আর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ১ দশমিক ৪ বিলিয়নের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে এডিবির। এখানেও অর্থের পরিমাণ আগামী দিনে আলোচনা করে বাড়তে পারে।’
এর আগে বাংলাদেশ ম্যানিলাভিত্তিক এ সংস্থার কাছে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়া যায়। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বাংলাদেশ তার প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। এর বেশির ভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিঙ্গাপুর, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে।
জানা গেছে, বাজেট সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় ধরনের সহায়তার কথা জানিয়েছে এডিবি। সরকার ২০৩০ সালে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। এ জায়গায় এডিবি বড় ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি। এছাড়া প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলারের নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা ২০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
এর আগে সোমবার এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে গভর্নরস বিজনেস সেশনে (উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক) বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সংকটে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দা ভাব কাটাতে এডিবির বাড়তি সহায়তা লাগতে পারে বলেও উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। এর একদিন পর বাজেট সহায়তার বিষয়টি নিয়ে এডিবি তার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে।
বৈঠকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি। এ খাতে সংস্থাটির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশও যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে অন্যান্য অনেক দেশও এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এডিবির খুবই আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তারা সহায়তা করবে। এখানে কিছু কিছু দেশও যেমন জার্মানি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ খাতের প্রকল্পগুলোয় তারাও সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এখানে একটা বড় পোর্টফোলিও আগামী দিনে আমরা আশা করছি হতে পারে। আর জার্মানি কিন্তু খুবই আগ্রহী, কারণ ক্লাইমেট ইস্যুটা আছে। জলবায়ুবান্ধব যে প্রকল্পগুলো রয়েছে, তার মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বিষয়ে তারা অনেক বেশি আগ্রহী।’
অন্যদিকে এডিবির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয় অর্থমন্ত্রীর। এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তার কথা জানান তিনি। নর্থ-ওয়েস্ট ঢাকা সাউথ-ইস্ট ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্টের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি এডিবির পূর্ণ সমর্থন ও আস্থার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকারকে এত বড় ম্যান্ডেট ও জনগণের আস্থা নিয়ে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এডিবি-প্রধান। এছাড়া দ্বিতীয় বিষয় হলো বর্তমান বিএনপির সরকারের যে ইশতাহার, আমরা জনগণের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, যে ইশতাহার দিয়েছি সেটার সঙ্গে সংস্থাটি পুরোপুরি সম্মত রয়েছে (ফুললি অ্যালাইনড)। সুতরাং অল প্রোগ্রামস, অল সাপোর্ট, অল প্রজেক্টস—এ সবকিছুই হবে আমাদের ইশতাহারের পরিপ্রেক্ষিতে।’
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের দুটি কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।