ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্লিনিক ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। চিকিৎসকদের ফিও মওকুফ করা হয়েছে। রোগীদের শুধু ওষুধ ও খাদ্যসহ বাকি ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে।
তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার থেকে সচেতনতামূলক অভিযান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বাসা, ভবনের ছাদ, আঙিনা বা আশপাশের পরিবেশে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এখনই ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে সরকার এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন শতভাগ স্বীকৃত ও সার্বজনীন নয়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে’
ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হলে আমরা সবাই ব্যর্থ। তাই সফল হতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
চলতি বছরে মৃত্যুহার কম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে গত বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল বছরের সর্বোচ্চ মাসিক মৃত্যুর রেকর্ড।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
