জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। এই বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম। নতুন করে একটি ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
কেন ভাঙা হলো বিসিবি বোর্ড?
এনএসসি জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে হওয়া বিসিবি নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। একটি তদন্ত কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, তারা এই অনিয়মগুলো খুঁজে বের করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী কী বলা হয়েছে?
২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়া সংস্থায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে এনএসসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব কী?
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নির্বাচন আয়োজন করবে এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করবে। তবে এই কমিটির সদস্যরা নিজেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

আইসিসির কোনো সমস্যা হবে?
এনএসসি বলছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা নেই। ইতোমধ্যে আইসিসিকে ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কমিটিতে কারা আছেন?
এই ১১ সদস্যের কমিটিতে তামিম ইকবাল ছাড়াও আছেন সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান। এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, যারা আগে বিভিন্ন সময় বিসিবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কমিটির কিছু সদস্য রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত—যেমন কয়েকজন সদস্য বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্য। এছাড়া তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহার মতো পরিচিত ব্যক্তিরাও আছেন এই কমিটিতে।
বিসিবি বোর্ড ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে অনিয়মের অভিযোগের কারণে। এখন এই কমিটির মূল কাজ হবে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে নতুন বোর্ড গঠন করা।