সর্বশেষ

বজ্রপাতে সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি

বজ্রপাতে সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি

বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে চার উপজেলায় ৫ জনসহ পাঁচ জেলায় মোট ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।  আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।  এছাড়া্ও হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও রংপুরে বজ্রপাতে একজন করে মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে পাঁচজনের প্রাণ গেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। নিহতরা হলেন- জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (২৩), দিরাই উপজেলার কৃষক লিটন মিয়া এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, পয়লা বৈশাখ থেকে হাওরে ধানকাটা শুরু হয়েছে। এবার জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টরে ধান কাটা যাচ্ছে না। তাই শ্রমিকই ভরসা। কিন্তু বজ্রপাতসহ নানা কারণে শ্রমিকরাও এখন ধান কাটতে চান না। তারপরও স্থানীয় শ্রমিক ও কৃষকরা হাওরে পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুরে পুকুরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ৭ জন। উপজেলার বড় হরিপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সর্দারপাড়া গ্রামের একটি মাছের ঘেরে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় স্থানীয় কয়েকজন দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে একটি বজ্রপাত হয়। তখন সেখানে উপস্থিত সবাই দিগবিদিক ছোটাছুটি করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন কয়েকজন। হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মিনি হাওরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলী সাহেবের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জীবিকার তাগিদে সুনাম উদ্দিন মিনি হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এ সময় হাওরে ধান কাটার কাজে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক কৃষক ও নেত্রকোনার আটপাড়ায় হাওরে আরও একজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে দিয়েছে ইরান। রানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড আজ শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।    “বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।” ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালীটি উন্মুক্ত থাকবে, তবে নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী চালু থাকলেও ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, সব ধরনের লেনদেন ও চুক্তি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, এই জলপথে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে, ঘালিবাফের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে।  প্রথমবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার।  দেশে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৩ লাখের মতো পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।

হামের টিকা না দেয়া বিগত সরকারের ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী

হামের টিকা না দেয়া বিগত সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী

সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে বিগত সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বিগত দুই সরকারের গাফিলতির কারণে দেশে হাম রোগের বিস্তার ঘটে এবং এতে বহু শিশুর মৃত্যু হয়।  তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে  বহু শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের তিনি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাবে। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর’ নীতিতে স্বাস্থ্যনীতি এগিয়ে নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যখাতে ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নেবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও সহজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্ব, টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত ও জনবল ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার করা হবে। তিনি আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য যানবাহনের জ্বালানি ও চালকের ব্যবস্থা করা হবে, তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশ থেকে আগত পাঁচ শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এতে অংশগ্রহণ করেন।

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions