আগামী অর্থবছরের জন্য বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল অবস্থায় আছে। দারিদ্র্য কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে বাজেটের আকার বাড়ানো জরুরি। কারণ, অর্থনীতিকে বর্তমান অবস্থান থেকে উন্নতির দিকে নিতে হলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি জরুরি।
বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির ওপর জোর
তিনি আরও বলেন, মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বড় বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজেট ছোট হলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় না বাড়ালে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশিত হবে না। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সঠিক ফল (রিটার্ন) নিশ্চিত করাও জরুরি। মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচার হলে তা বড় সমস্যা তৈরি করবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বার্তা
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি জানান, আগামী বাজেটে হয়তো নতুন করে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ব্যবসা পরিচালনায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিকেই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
বন্দর ও ব্যবসায়িক বাধা দূরীকরণ
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল বৃদ্ধিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বন্দর ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও জটিলতা কমানোর আশ্বাস দেন। ব্যবসায়ীরা কোথায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা জানালে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপ
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে, যাতে কিছুটা সময় নিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা
তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত পিছিয়ে আছে। এসব খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং নতুন খাতগুলোকে উৎসাহিত করা হবে।
কর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর
সবশেষে, কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এতে করদাতা ও কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কমবে এবং দুর্নীতি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও জোর দেন।
সূত্র অনুযায়ী, আগামী বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।