গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। একটি বহুতল বাড়ির নিচতলা থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং তাঁর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার, তাঁর তিন মেয়ে এবং ছোট ভাই রসুল মিয়া। ঘটনার পর থেকে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
শনিবার সকালে ফোরকান কয়েকজন আত্মীয়কে ফোন করে সবাইকে হত্যা করার কথা জানান বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। অন্যদিকে নিহত রসুল মিয়া একটি কারখানায় চাকরি করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফোরকান কৌশলে রসুলকে বাড়িতে ডেকে এনে পরে তাকেও হত্যা করেন।
স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে ফোরকানের দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা নিয়ে শারমিনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। কয়েক মাস আগে শারমিন শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে গেলেও ফোরকান আবার তাঁকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাদের দাম্পত্য কলহ থামেনি।
ঘরের ভেতর থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তবে শারমিনের স্বজনেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ফোরকান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য এমন অভিযোগ তৈরি করেছিলেন।
ঘটনার পর পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। ঘর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।