সর্বশেষ

মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়।  দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে।  বিজয় থালাপতি এর নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম এবার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রাজ্যের ছোট দুটি দল—ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ—নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ায় টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছেছে।  যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের চেয়ে বেশি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভিসিকে ও আইইউএমএল তাদের দুইজন করে বিধায়কের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে-কে প্রদান করে। তাদের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যায় এবং বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। ভিসিকের পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে পাঠানো সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর জনগণের জন্য একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের লক্ষ্যেই তারা টিভিকে-কে সমর্থন দিচ্ছে। দলের সভাপতি ড. থোল থিরুমাভালাভান বলেন, এই সমর্থন সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে এবং রাজ্যের স্থিতিশীল শাসন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এর আগে কংগ্রেসের পাঁচটি আসন এবং বামপন্থি দল সিপিআইএম ও সিপিআইও টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছিল। ফলে জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। গত কয়েকদিন ধরে টিভিকে প্রধান বিজয় একাধিকবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রের অভাবে প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়। বর্তমানে বিজয়ের পরবর্তী ধাপ হলো সব সমর্থক বিধায়কের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরসহ তালিকা রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া। এরপর রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়, যা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তামিলনাড়ুর রাজ্যসভায় আসন রয়েছে ২৩৪টি। এবারের নির্বাচনে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ১০৮টি আসন পেয়েছে থালাপতির টিভিকে। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাদের আর ১০টি আসন প্রয়োজন হয়। সংখ্যায় ১০টি আসন কম হলেও এগুলো পেতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে থালাপতিকে।  তার সঙ্গে ভারতীয় কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, সিপিআই (এম) ও সর্বশেষ ভিসিকে জোট গঠন করতে যাচ্ছে।

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।  চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।  সকালে বল হাতে বাংলাদেশের শেষ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ৪১৩ রানে আটকে দেয় সফরকারীরা।  এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে ১৭৯ রান তুলে। দ্বিতীয় দিনেও শুরুটা ভালো হয়েছিল টাইগারদের, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা ম্যাচ থেকে কিছুটা ছিটকে যায়। বিশেষ করে বোলিংয়ে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা যায়। পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিকে ভাঙতে বাংলাদেশকে ২২ ওভার অপেক্ষা করতে হয়, আর সেটিই ছিল দিনের একমাত্র সাফল্য। ফলে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেও দ্বিতীয় দিন শেষে পিছিয়ে থাকে স্বাগতিকরা। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করেছে। তারা এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে আছে ৯ উইকেট। এর আগে বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের ইনিংসে ওপেনিংয়ে ভালো সূচনা এনে দেন আযান এওয়াইস ও ইমাম-উল-হক। আযান দারুণ ব্যাটিং করে অভিষেকেই ফিফটি তুলে নেন এবং ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন। আবদুল্লাহ ফজলও ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সাফল্য পান মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি ইমাম-উল-হককে ৪৫ রানে আউট করেন। এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ৭১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। লিটন দাস ৩৩ রান এবং তাসকিন আহমেদ ২৮ রানের ক্যামিও খেলেন। তবে নিয়মিত উইকেট পতনে বড় ইনিংস গড়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ মাতাবেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়

ফিফা বিশ্বকাপ মাতাবেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়।  ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এই আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে তিন দেশেই ভিন্ন ভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। যেখানে দেখা যাবে এক বাংলাদেশি সঙ্গীত শিল্পী সঞ্জয়কেও। নিজেদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেসব তারকারা পারফর্ম করবেন, তাদের নাম প্রকাশ করেছে কানাডা। আগামী ১২ জুন টরেন্টোতে অনুষ্ঠেয় উদ্বাধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়। সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও বেড়ে উঠা যুক্তরাষ্ট্রে। সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীত প্রযোজক এবং ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিতি আছে সঞ্জয়ের। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা যাবে অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, ভেজিড্রিম, উইলিয়াম প্রিন্সের মতো একঝাঁক আন্তর্জাতিক তারকারা। সংগীতে ফুটবে কানাডার ঐক্যের বার্তা আয়োজকেরা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ফুটবলের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হবে। বিশ্বকাপ ট্রফিকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এই ট্রফি কানাডার বিভিন্ন সংস্কৃতি, মানুষ ও সম্প্রদায়ে বৈচিত্র্য তুলে ধরবে। টরন্টো শো বিশ্বকাপ উন্মাদনার প্রতিচ্ছবি: ফিফা সভাপতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, টরন্টোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কানাডার পরিচয় এবং ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে থাকা উন্মাদনার এক শক্তিশালী প্রতিফলন হবে। সংগীত, সংস্কৃতি এবং অবিস্মরণীয় পরিবেশনার মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে এমন এক উদযাপনে স্বাগত জানাব, যা একদিকে হবে পুরোপুরি কানাডিয়ান, অন্যদিকে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলা বৃহত্তর গল্পের সঙ্গেও সংযুক্ত থাকবে। এটি হবে গর্ব, ঐক্য ও প্রত্যাশার এক বিশেষ মুহূর্ত, যখন কানাডা ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেবে। দর্শকদের জন্য থাকবে বিনোদনের বিশেষ আয়োজন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে। ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হবে। দর্শকদের জন্য থাকবে বিশেষ অ্যাক্টিভেশন, পুরস্কার ও প্রাক-ম্যাচ বিনোদনের আয়োজন। ১১ জুন বিশ্বকাপের মূল আসর শুরু হবে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান

ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। শনিবার তারা জানায়, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। তবে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। সম্প্রতি কানাডা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসবে না। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে তারা নিশ্চয়তা চায়। ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ বলেন, আয়োজকদের কাছে তারা ১০ দফা শর্ত দিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা নিশ্চয়তা, জাতীয় পতাকা ও সংগীতের সম্মান রক্ষা এবং যাতায়াতের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানি ফুটবলারদের স্বাগত জানানো হবে। তবে আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইরান চায়, জাতীয় দলের যেসব খেলোয়াড় অতীতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের যেন কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে না হয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচ খেলবে। গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা দলটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। একই গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম ও মিশরও। ইরান ফুটবল ফেডারেশন আরও বলেছে, যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপে খেলার অধিকার পেয়েছে এবং বাইরের কোনো চাপ সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।  একটি বহুতল বাড়ির নিচতলা থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং তাঁর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার, তাঁর তিন মেয়ে এবং ছোট ভাই রসুল মিয়া। ঘটনার পর থেকে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শনিবার সকালে ফোরকান কয়েকজন আত্মীয়কে ফোন করে সবাইকে হত্যা করার কথা জানান বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। অন্যদিকে নিহত রসুল মিয়া একটি কারখানায় চাকরি করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফোরকান কৌশলে রসুলকে বাড়িতে ডেকে এনে পরে তাকেও হত্যা করেন। স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে ফোরকানের দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা নিয়ে শারমিনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। কয়েক মাস আগে শারমিন শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে গেলেও ফোরকান আবার তাঁকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাদের দাম্পত্য কলহ থামেনি। ঘরের ভেতর থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তবে শারমিনের স্বজনেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ফোরকান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য এমন অভিযোগ তৈরি করেছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। ঘর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো বিজেপির হাত ধরে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (৯ মে) সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান গভর্নর আর. এন. রবি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিজেপির উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করার পেছনে তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এবার সেই শুভেন্দুই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বিজেপির একাধিক পরিচিত নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। শপথ অনুষ্ঠানে তারাও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের আলোচনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

বিশ্বকাপ মাতাবেন শাকিরা, আসছে নতুন গান ‘দাই দাই’

বিশ্বকাপ মাতাবেন শাকিরা, আসছে নতুন গান ‘দাই দাই’

বিশ্বকাপ মাতাবেন শাকিরা, আসছে নতুন গান ‘দাই দাই’। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এ আবারও দর্শকদের মাতাতে আসছেন কলম্বিয়ার জনপ্রিয় গায়িকা শাকিরা। নতুন গান ‘দাই দাই’ দিয়ে তিনি ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে সঙ্গীতের জাদু ছড়াবেন। এর আগে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান দিয়ে পুরো বিশ্বকে মাতিয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী শাকিরা। সেই গানটি শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পপ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আজও গানটির জনপ্রিয়তা কমেনি। প্রায় ১৬ বছর পরও সেই উন্মাদনা ধরে রেখেছেন ৪৯ বছর বয়সী এই লাতিন পপ তারকা। নতুন গান নিয়েও ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে গানের টিজার প্রকাশ করেছেন শাকিরা। যেখানে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের বল ‘ত্রিওন্দা’ সামনে রেখে ডান্সারদের সঙ্গে মিলে গাইছেন ও নাচছেন এই কলাম্বিয়ান পপ সুপারস্টার। গানের কোরিওগ্রাফিতে আরও তিনটি বিশ্বকাপের ফুটবল ব্যবহার করা হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভ্যালে জানিয়েছে, গানটিতে শাকিরার সঙ্গে কাজ করেছেন নাইজেরিয়ান আফ্রোবিট তারকা বার্না বয়। ১৪ মে মুক্তি পাবে দাই দাই গানটি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিনিটের একটি টিজার ভিডিও প্রকাশ করেন শাকিরা। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে, এই হলো ‘দাই দাই’, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান।’ টিজারে দেখা যায়, ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের মাঠে হলুদ জার্সি ও নীল শর্টস পরে হাতে ফুটবল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শাকিরা। তাকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীরা পারফর্ম করছেন। আতশবাজির ঝলকানি আর ‘উই আর রেডি’ বার্তার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভিডিওটি। গানের সংক্ষিপ্ত অংশে শাকিরাকে গাইতে শোনা যায়, ‘হেয়ার ইন দিস প্লেস, ইউ বিলং’, আর সঙ্গে ভেসে আসে পুরুষ কণ্ঠের সুর। আরেক অংশে শোনা যায়, ‘হোয়াট ব্রোক ইউ ওয়ান্স, মেইড ইউ স্ট্রং’। পুরো গানটি আগামী ১৪ মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। টিজার প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেক ভক্তের মতে, শাকিরার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ আবারও তার চিরচেনা উৎসবমুখর আবহ ফিরে পেয়েছে। কেউ লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপকে বাঁচাতে রানি ফিরে এসেছেন।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘শুধু শাকিরার গান শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই বিশ্বকাপ বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে।’ ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে শাকিরার ‘দাই দাই’কে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোকা-কোলাও আলাদা একটি অফিসিয়াল থিম সং প্রকাশ করেছে। সেটি মূলত ভ্যান হ্যালেনের বিখ্যাত গান ‘জাম্প’-এর নতুন সংস্করণ, যেখানে অংশ নিয়েছেন জে বালভিন, ট্র্যাভিস বার্কার, অ্যাম্বার মার্ক ও স্টিভ ভাই। ওই গানে স্প্যানিশ ভাষায় নতুন অংশ যোগ করেছেন জে বালভিন। তিনি জানিয়েছেন, ফুটবলের প্রতি লাতিন জনগোষ্ঠীর আবেগ ও ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলতেই গানের নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। তবে ফুটবল আর বিশ্বকাপের আবেগের সঙ্গে শাকিরার নাম যে আলাদাভাবে জড়িয়ে আছে, তা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘ওয়াকা ওয়াকা’র পর এবার ‘দাই দাই’ দিয়েও বিশ্বকাপ মাতাতে প্রস্তুত এই কলম্বিয়ান সুপারস্টার।

© 2026 Harkara24.com। এই ওয়েবসাইটের সকল কনটেন্ট সংরক্ষিত। বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য বা কনটেন্টের জন্য Harkara24 দায়বদ্ধ নয়।

FixiFite Web Solutions