জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর এর প্রভাব সরাসরি গণপরিবহনে পড়েছে। সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের কোনো ঘোষণা না থাকলেও বিভিন্ন রুটে চালক ও সহকারীরা নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠছে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু ব্যস্ত বা দূরপাল্লার রুটে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। যাত্রীরা এ নিয়ে আপত্তি জানালে অনেক সময় চালক ও সহকারীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, এমনকি কোথাও কোথাও যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো সরকারি নির্দেশনা বা নীতিমালা ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা বলছেন, ২০২২ সালে নির্ধারিত ভাড়া বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তখন দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২.২০ টাকা এবং মহানগরে ২.৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু এরপর আর কোনো সমন্বয় হয়নি। তাদের দাবি, বর্তমান ব্যয় বিবেচনায় ভাড়া না বাড়ালে লোকসান দিয়ে পরিবহন চালানো সম্ভব নয়।
এদিকে যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলোর মতে, সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই কিছু পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শুধু বাস নয়, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং সেবাতেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বেশি।
এছাড়া দূরপাল্লার বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিবহন খাতে পড়ছে।