ফ্ল্যাগভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে বন্যা মোকাবিলার একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মহড়ার মাধ্যমে মানুষকে আগে থেকেই সতর্ক থাকার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ফেজ-৩ এর আওতায় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ এই আয়োজন করে। পদ্মার চর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনতা অংশ নিয়ে বন্যার সময় কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়, তা শিখেছেন। এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম প্রস্তুতি, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
ফরিদপুরে বন্যা ঝুঁকি ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ
ফরিদপুর জেলা দীর্ঘদিন ধরেই বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হন। যার ফলে ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মৌলিক সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যার সময়কাল ও তীব্রতার অনিশ্চয়তা বাড়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও আরও জটিল হয়েছে।

আগাম সতর্কতায় নতুন ফ্লাড রিস্ক মডেল
জাতীয় পর্যায়ে আগাম সতর্কতা উন্নত হলেও সাধারণ মানুষকে সহজভাবে বোঝানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট একটি ডাইনামিক ফ্লাড রিস্ক মডেল তৈরি করেছে। যা ফরিদপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এই মডেলে বন্যার ঝুঁকি পাঁচটি স্তরে ভাগ করে পতাকার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। যাতে মানুষ সহজে বুঝে আগাম বন্যার প্রস্তুতি নিতে পারেন।
দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ
দিনব্যাপী এই মহড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
দুর্যোগ প্রস্তুতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করতে হবে, তা অনুশীলন করানো হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, সহজে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকর তথ্য পৌঁছে দিতে সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বন্যা ঝুঁকি বোঝাতে পতাকা ভিত্তিক ব্যবস্থা
কারিগরি সেশনে বুয়েটের প্রফেসর আনিসুল হক ডাইনামিক ফ্লাড রিস্ক মডেল কীভাবে কাজ করে তা সহজভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পানির গভীরতা, বন্যার স্থায়ীত্ব ও সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা দেখে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেই ঝুঁকি পতাকার মাধ্যমে সহজভাবে সবার সামনে দেখানো হয়, যাতে মানুষ দ্রুত বুঝতে পারে।

ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু ত্রাণ দিলেই হবে না, আগাম প্রস্তুতিও জরুরি। আগাম প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।
এ ধরনের মহড়া বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসকে সহজবোধ্য ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। এই উদ্যোগ ফরিদপুরসহ দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকায় ক্ষতি কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন বক্তরা।