নওগাঁর নিয়ামতপুরে শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ধারণা, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়; বরং পারিবারিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তারা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), তার দুই বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি কোনো ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। বরং পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা জমি-সংক্রান্ত বিরোধই এর মূল কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নিহত এক গৃহবধূর গলায় থাকা স্বর্ণালংকার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ডাকাতির সন্দেহকে আরও দুর্বল করে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাদের হত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে সকালে প্রতিবেশীরা দরজা খোলা দেখে ভেতরে প্রবেশ করলে চারজনের মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে তার বোন শিরিনার মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ও হুমকির অভিযোগও ছিল।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেছেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও শিরিনার ছেলে সবুজ রানাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও তারা হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।